সরকারের মাথায় এত ঋণ? সব দপ্তরের ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

বিধানসভার বাদল অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতার জবাবি ভাষণে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজ্যের ঋণের বোঝা এবং বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন দপ্তরের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে এবার ‘শ্বেতপত্র’ (White Paper) প্রকাশের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। পাশাপাশি সব দপ্তরের সিএজি (CAG) রিপোর্টও প্রকাশ্যে আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঋণের উৎস ও দুর্নীতির পর্দাফাঁস অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, রাজ্যের বর্তমান ঋণের পরিস্থিতির নেপথ্যে কোন কোন দপ্তরের কী ধরনের দুর্নীতি ছিল, তা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, “অর্থ দপ্তর জানাবে, ঠিক কোন কোন দুর্নীতির কারণে আমাদের এই ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে। যা হয়েছে, তা আমরা ভুলে যেতে পারি না।”

বিরোধী বিধায়কদের তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত বিধানসভায় বিভিন্ন বিরোধী বিধায়কের আনা অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, মালদা এয়ারপোর্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের জমি বণ্টন, কলকাতার জলাভূমি (Wetlands) দখল, সাইবার ক্রাইম এবং ভুয়ো এসসি/এসটি সার্টিফিকেট প্রদান—সহ একাধিক বিষয়ে যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হবে। অর্থমন্ত্রীর কথায়, “কুণাল ঘোষ, জাভেদ খান বা নওশাদ সিদ্দিকিদের মতো বিধায়করা যে বিষয়গুলো সামনে এনেছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। এই দুর্নীতিগুলো কেন হলো এবং কারা এর নেপথ্যে, তা শ্বেতপত্রের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।”

আয়ের নতুন দিশা ও কেন্দ্রীয় সহায়তা বাজেটে জনহিতকর প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তরে স্বপন দাশগুপ্ত জানান, কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের উন্নতির ফলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো থেকে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা রাজ্যে আনা সম্ভব হয়েছে, যা আগে ব্যবহারই করা হতো না। এছাড়া কয়লা, বালি ও পাথর খাদানগুলো থেকে রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি আধুনিকায়ন করে রাজ্যের কোষাগার মজবুত করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *