তদন্তের গতি নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা: আরজি কর মামলায় সিবিআইকে কড়া ভর্ৎসনা ডিভিশন বেঞ্চের

আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক, যিনি ‘অভয়া’ নামে পরিচিত, সেই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে বুধবার আরও একবার সিবিআই-এর কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। তদন্তকারী সংস্থাটি আদালতে তাদের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দিলেও, তাতে বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট নয় বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ও আদালতের অসহায়ত্ব শুনানি চলাকালীন বিচারপতিদের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, এই মামলার তদন্তে যে গতি ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন ছিল, তা কার্যত অনুপস্থিত। বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ কার্যত আক্ষেপের সুরে প্রশ্ন তোলে, “সিবিআই যদি তদন্ত করতে আগ্রহী না হয়, তবে আদালতের আর কী করার থাকতে পারে? সিবিআই নিজেরাই বলুক আদালত কী পদক্ষেপ নিতে পারে!” আদালতের এই পর্যবেক্ষণ বুঝিয়ে দিচ্ছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রতি তাদের আস্থা ও ধৈর্য ক্রমশ কমছে।
আইনজীবীর কণ্ঠে ক্ষোভ নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, শুনানির সময় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সিবিআই কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, “বিচারপতিরা যেভাবে ভর্ৎসনা করেছেন, তাতে তদন্তকারী সংস্থার ব্যর্থতা প্রকট হয়ে উঠেছে। নির্যাতিতার পরিবার বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছে, কিন্তু সিবিআই-এর রিপোর্টে কোনো দিশা নেই।”
তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচনে বা ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে সিবিআই কেন ব্যর্থ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। আদালতের এই কঠোর অবস্থান ও ‘অসহায়ত্ব’ প্রকাশ মূলত তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রিতার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
এখন দেখার বিষয়, আদালতের এই ভর্ৎসনার পর সিবিআই তাদের কৌশল বদলায় নাকি তদন্ত প্রক্রিয়ায় বড় কোনো রদবদল করা হয়। রাজ্যের নজর এখন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে।