বিশ্বমঞ্চে ভারতের জয়গান: ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে সোনা ও বিশ্বরেকর্ড গড়ে ইতিহাস গড়লেন অভিনব সাউ

ফের বিশ্বমঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করলেন আসানসোলের তরুণ শুটার অভিনব সাউ। জার্মানির সুহলে আয়োজিত ‘জুনিয়র ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর ১০ মিটার এয়ার রাইফেল মিক্সড টিম ইভেন্টে স্বর্ণপদক জয়ের পাশাপাশি নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি। অভিনবের এই অসামান্য সাফল্যে খুশির হাওয়া আসানসোল জুড়ে।
বিশ্বরেকর্ডের নেপথ্যে এই প্রতিযোগিতায় অভিনবের সঙ্গী ছিলেন সম্ভাবী শর্বন ক্ষীরসাগর। বাছাই পর্বে ৬৩৪.৬ স্কোর করে তাঁরা ফাইনালে ওঠেন। এরপর ফাইনালে শুরু থেকেই জার্মানি ও নরওয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের পিছনে ফেলে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন অভিনব ও সম্ভাবী। শেষ পর্যন্ত ৫০৫.৮ স্কোর করে তাঁরা আগের রেকর্ড (৪৯৯.৯) ভেঙে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন।
সংগ্রামের গল্প ২০০৮ সালে অভিনব বিন্দ্রার অলিম্পিক সোনা জয়ের বছরেই জন্ম অভিনবের। শুটার বিন্দ্রার নামানুসারেই পরিবারের সদস্যরা তাঁর নাম রাখেন ‘অভিনব’। স্বপ্ন ছিল তাঁকে বিশ্বমানের শুটার হিসেবে গড়ে তোলার। আসানসোল রাইফেল ক্লাবে ছোট থেকেই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। তবে শুটিং অত্যন্ত ব্যয়বহুল খেলা হওয়ায় এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। অভিনবের বাবা রূপেশ সাউ একজন গৃহশিক্ষক, সীমিত আয়ের মধ্যেও ছেলের স্বপ্নপূরণে কোনো খামতি রাখেননি তিনি। রূপেশবাবু জানান, পশ্চিমবঙ্গ রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বীরেন্দ্র কুমার ঢল এবং তাঁর স্কুলের প্রিন্সিপাল রবি ভিক্টরের সহযোগিতা না পেলে হয়তো এই সাফল্য পাওয়া কঠিন হতো।
অভিভাবকের আক্ষেপ ও প্রত্যাশা ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত বাবা রূপেশ সাউ ইটিভি ভারতকে বলেন, “দাদু স্বপ্ন দেখত অভিনব একদিন বিরাট শুটার হবে। আজ ও বিশ্বরেকর্ড করল, আমরা সবাই খুব গর্বিত। এখন ওর বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় আছি।” তবে তিনি আক্ষেপের সুরে জানান, এই খেলা অত্যন্ত খরচসাপেক্ষ। সরকারের তরফ থেকে আরও কিছুটা সহযোগিতা পেলে অভিনব ভবিষ্যতে ভারতের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনতে পারবে।
জার্মানি থেকে ফিরে অভিনবকে বরণ করে নিতে আজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আসানসোল। এই তরুণ শুটারের হাত ধরে ভারত যে ভবিষ্যতে অলিম্পিকের মঞ্চেও বড় সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে, তা বলাই বাহুল্য।