বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে তোলপাড়! তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে সরব কংগ্রেস ও সিপিএম

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনার পরই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের দাবি, এই দুর্ঘটনা আকস্মিক নয়, বরং কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ফল। বন্দরের জমিতে গড়ে ওঠা একাধিক বেআইনি নির্মাণ নিয়ে আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।

সিপিএমের অভিযোগ: মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন যে, সিটু (CITU)-র তরফে অনেক আগেই তারাতলা এলাকার বেআইনি নির্মাণের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, স্ট্র্যান্ড রোড থেকে তারাতলা পর্যন্ত বিশাল এলাকাজুড়ে থাকা বন্দরের জমি নিয়ম বহির্ভূতভাবে ‘নন-পোর্ট’ কাজে বা অ-বন্দর সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি এই জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক যোগসাজশ বা কর্পোরেট সংস্থার স্বার্থ জড়িয়ে আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া: এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই বুধবার দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ কংগ্রেসের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। সরকারের উদাসীনতা এবং প্রশাসনের নজরদারির অভাবকেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেছে কংগ্রেস।

তদন্তের দাবি: উভয় বিরোধী দলই একযোগে দাবি জানিয়েছে যে, শুধু দোষীদের শাস্তিতে সীমাবদ্ধ না থেকে, বন্দর ও কলকাতা শহর জুড়ে থাকা সমস্ত বিপজ্জনক ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, বন্দরের জমি কীভাবে বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো কাজে লিজ দেওয়া হচ্ছে, সেই পুরো প্রক্রিয়ার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করছেন।

তারাতলার এই দুর্ঘটনা এখন শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে তরজার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতি নিয়ে বিরোধী শিবির একের পর এক তোপ দাগছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *