মিড-ডে মিল থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা: বিধানসভায় একাধিক ইস্যুতে সরব বিধায়ক কুণাল ঘোষ

রাজ্য বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের অস্পষ্টতা এবং রাজ্যের আর্থিক বকেয়া নিয়ে সরব হলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর এই সমালোচনা বিরোধিতার খাতিরে নয়, বরং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে।

বাজেট আলোচনায় কুণাল ঘোষের প্রধান দাবি ও প্রস্তাবসমূহ:

  • শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি: ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যের প্রাপ্য বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের জোরালো দাবি জানিয়েছেন কুণাল ঘোষ।

  • প্রকল্পের রূপরেখা ও ধোঁয়াশা: অন্নপূর্ণা যোজনা বা অন্যান্য জনমুখী প্রকল্পের ‘উপযুক্ত’ শর্তাবলি নিয়ে তিনি ধোঁয়াশা কাটাতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। প্রকল্পের সুবিধা যাতে সঠিক উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, তার জন্য শর্তগুলো আরও স্পষ্ট করার আবেদন জানান তিনি।

  • মিড-ডে মিল ও ডিমের রাজনীতি: কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলিতে ইসকনের সহায়তায় পুষ্টিকর খাবার বিতরণের বিষয়টিকে তিনি স্বাগত জানালেও, মেনুতে ডিম অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। বিধায়কের মতে, বহু শিশু ডিমের আকর্ষণে স্কুলে আসে, তাই শিশুদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে এই বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

  • সাংবাদিকদের পেনশন: অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি দাবি তুলেছেন, শুধুমাত্র অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী নয়, নেপথ্যে কাজ করা সংবাদমাধ্যমের ডেস্ক কর্মীদেরও যেন এই সুবিধার আওতায় আনা হয়।

  • ঐতিহ্য ও পরিকাঠামো: সুভাষ সরোবরের সৌন্দর্যায়ন, রামমোহন লাইব্রেরি এবং টাকি বয়েজ স্কুলের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের আবেদন রেখেছেন তিনি। এছাড়া, ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজকে বিশ্বের বৃহত্তম হোমিওপ্যাথি হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাবও দিয়েছেন।

  • নারী ক্ষমতায়ন: রাজ্য পুলিশে ‘মাতঙ্গিনী হাজরা’ ও ‘রানি শিরোমণি’র নামে দুটি মহিলা ব্যাটালিয়ন তৈরির ঘোষণাকে তিনি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি মেদিনীপুরে রানি শিরোমণির স্মৃতি স্মারক তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন।

সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি: কুণাল ঘোষ এদিন সিভিক ভলেন্টিয়ারদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, তিনি বাজেটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি আরও কিছুটা সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান। বাইপাস সংলগ্ন এলাকার জমির ব্যবহার ও পরিকাঠামো নিয়েও এদিন তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

বিধানসভার এই বাজেট বিতর্কে কুণাল ঘোষের গঠনমূলক সমালোচনা এবং একাধিক জনমুখী প্রস্তাব রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *