অরূপ রায় দলের নতুন সভাপতি: মমতার কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বড় পদক্ষেপ বিদ্রোহীদের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহ এখন চরমে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে যে চাপা ক্ষোভ ছিল, তা সোমবার এক বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে প্রকাশ্য রূপ নিল। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতারা বিধায়ক অরূপ রায়কে দলের নতুন সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদল ঘটিয়ে মমতা ব্যানার্জীকে চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার এবং অভিষেক ব্যানার্জীকে দল থেকে সাসপেন্ড করার ঘোষণা দিয়েছে এই শিবির।

মমতা ব্যানার্জীর প্রতি ‘আপোষমূলক’ বার্তা: বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন মমতা ব্যানার্জীর কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, অন্যদিকে তাঁর প্রতি একটি বিশেষ প্রস্তাবও রেখেছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, মমতা ব্যানার্জী যদি চান, তবে তিনি বিদ্রোহী শিবিরের ‘প্রধান উপদেষ্টা’ হিসেবে কাজ করতে পারেন এবং দলের তরফ থেকে তাঁকে স্বাগত জানানো হবে। মমতার হাত থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার মাঝেই এই প্রস্তাবকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন সাজে বিদ্রোহী তৃণমূল: সোমবারের বিশেষ অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:

  • সভাপতি: অরূপ রায়।

  • সহ-সভাপতি: অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, রথিন ঘোষ ও সবিনা ইয়াসমিন।

  • সাধারণ সম্পাদক: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহা।

  • কোষাধ্যক্ষ: আখরুজ্জামান আনসারী।

নির্বাচন কমিশনের দিকে নজর: এই সভার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ঋতব্রত ব্যানার্জী সাফ জানিয়েছেন, তারা নিয়ম মেনেই এই অধিবেশন ডেকেছেন এবং সমস্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তিনি বলেন, “আমাদের দলটি আসল নাকি নকল, তা নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে।”

সাংসদদের বিদ্রোহ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা: দলের অভ্যন্তরীণ এই সংকট কেবল রাজ্য রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই। সংসদীয় স্তরেও টিএমসি সাংসদদের একটি অংশ দলের মূল শাখা থেকে বেরিয়ে এসে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন বলে খবর। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনের সমর্থন বিদ্রোহী শিবিরের প্রতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা ব্যানার্জীর দীর্ঘদিনের গড়ে এই ভাঙন এবং নতুন নেতৃত্বের উত্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অস্থির সময়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তৃণমূলের এই বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *