বিধানসভায় ক্ষমতার উলটপুরাণ! বিএ কমিটি থেকে বাদ মমতা-ঘনিষ্ঠরা, দাপট ঋতব্রতপন্থীদের?

বিধানসভার অন্দরে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র কি বদলাচ্ছে? সম্প্রতি বিধানসভার বিজনেস অ্যাডভাইসরি (BA) কমিটি পুনর্গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। ১৯ জুন গঠিত এই নতুন কমিটির তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমীকরণ ফুটে উঠেছে, যেখানে শাসকদলের অন্দরে ‘মমতাপন্থী’ বিধায়কদের অনুপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিএ কমিটির গুরুত্ব: বিধানসভার কার্যবিবরণী পরিচালনার ক্ষেত্রে এই বিএ কমিটিই হলো আসল চালিকাশক্তি। অধিবেশন কবে থেকে শুরু হবে, কতদিন চলবে, কোন বিল কবে পেশ হবে এবং প্রতিটি বিষয়ের উপর কতক্ষণ আলোচনা হবে—এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় এই হাই-প্রোফাইল কমিটি। তাই এখানে কার প্রাধান্য থাকছে, তা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনীতির দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কমিটিতে রদবদল ও নতুন মুখ:
-
ঋতব্রতপন্থীদের দাপট: নতুন গঠিত ১৯ সদস্যের এই কমিটিতে দেখা যাচ্ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী ও ঘনিষ্ঠ বিধায়কদের একচ্ছত্র প্রভাব। বিপ্লব মিত্র থেকে শুরু করে সমীর কুমার জানা—সকলেই এখন এই কমিটির পূর্ণাঙ্গ সদস্য।
-
মমতাপন্থীদের অনুপস্থিতি: শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বা কুণাল ঘোষের মতো মমতা-ঘনিষ্ঠ নেতাদের এই তালিকায় না থাকাটা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে একটি বড় সংকেত বলে মনে করা হচ্ছে।
-
বিরোধীদের গুরুত্ব: সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই কমিটিতে শুধু শাসকদলের ঋতব্রতপন্থী বিধায়করাই নন, বরং বিরোধী পক্ষ থেকে বাম, কংগ্রেস এবং আইএসএফ বিধায়কদেরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে জায়গা পেয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকী, মোহতাব শেখ এবং মহম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।
রাজনৈতিক জল্পনা: বিধানসভার অন্দরের এক প্রবীণ বিধায়কের মতে, “এই রদবদল কেবল নতুন কমিটির গঠন নয়, বরং এটি বিধানসভায় ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত। মমতাপন্থীদের বাদ দিয়ে ঋতব্রতপন্থী ও বিরোধীদের এই সহাবস্থান আগামিদিনে বিধানসভার অধিবেশনে বড় কোনো রাজনৈতিক ঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে।”
একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর ‘কাজ’ করার বার্তায় ঋতব্রতর সায়, অন্যদিকে বিএ কমিটিতে এই বড় পরিবর্তন—আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্দরের লড়াই যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
(তথ্যসূত্র: বিধানসভার প্রকাশিত নতুন সদস্য তালিকা অনুযায়ী।)