খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে আমন্ত্রণ পেলেন মোদী! ইরান কি তবে নতুন কোনো কূটনৈতিক বার্তা দিচ্ছে?

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আগামী ৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ৯ জুলাই পর্যন্ত এই শেষকৃত্য প্রক্রিয়া চলবে।
শেষকৃত্যের সূচি ও বিশাল আয়োজন: দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করা খামেনেইয়ের শেষযাত্রা হবে অত্যন্ত জনবহুল। ইরানের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ছাড়াও প্রায় ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ৪ জুলাই শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়াটি ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র নগরী মাশহাদে তাঁর সমাধিস্থ করার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে। এর মাঝে ৭ জুলাই ইরানের কোমে একটি বিশেষ শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ? চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইজরায়েলি বিমান হামলায় খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই তাঁর শেষকৃত্যের দিনক্ষণ নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। বর্তমানে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনেইয়ের পুত্র মোজতবা হোসেইনি খামেনেই দায়িত্ব পালন করছেন, যদিও তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা গুঞ্জন রয়েছে।
এই আমন্ত্রণ এমন এক সময়ে এল, যখন দীর্ঘ যুদ্ধের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে। সুইজারল্যান্ডে দুদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি আলোচনা চলছে এবং প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ডিজিটাল সমঝোতা স্মারকে (MoU) স্বাক্ষর করেছেন। এমন রাজনৈতিক পটভূমিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইরান সফরের সম্ভাবনা ভারতের কূটনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতোল্লা রুহুল্লাহ খোমেনেইয়ের শেষকৃত্যে রেকর্ড ১ কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এবারের আয়োজন সেই সংখ্যাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রধানমন্ত্রী মোদী এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ইরান সফর করেন কি না।