পার্থ-ঘনিষ্ঠদের পর এবার সব্যসাচীর ‘ঘনিষ্ঠ’ টিনা! জেনেনিন কে এই রহস্যময়ী?

রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের পর এবার নতুন করে শিরোনামে উঠে এল আরও এক নাম—টিনা ভৌমিক সাহা। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে উঠে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত টিনার বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে ৩ কেজিরও বেশি সোনা, যা দেখে রীতিমতো তাজ্জব গোয়েন্দারা।
কে এই টিনা ভৌমিক সাহা? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, টিনার আদি পরিচয় এবং তার আয়ের উৎস নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে তাকে একজন সাধারণ গৃহবধূ মনে হলেও, নিয়োগ দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা তার জীবনযাত্রা থেকেই স্পষ্ট। জানা গেছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া সোনার পরিমাণের চেয়েও টিনার কাছে পাওয়া সোনার পরিমাণ অনেক বেশি।
কীভাবে এল এত সম্পত্তি? অভিযোগ, ‘সাদা খাতা’য় চাকরি দেওয়ার নামে যে বিশাল অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে, তারই একাংশ বিনিয়োগ করা হয়েছে এই সব বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে। গোয়েন্দাদের দাবি, টিনার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ৩ কেজিরও বেশি সোনা আসলে নিয়োগ দুর্নীতির টাকাতেই কেনা। একটি সাধারণ পরিবারের সদস্য হয়ে কীভাবে তিনি কোটি টাকার মালিক হলেন, সেই রহস্য উন্মোচনে মরিয়া তদন্তকারীরা।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে TMC দল। সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠ মহলে নাম জড়ানোয় বিরোধী দলগুলো সুর চড়িয়েছে। বিজেপির দাবি, “এটি কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। নিয়োগ দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে।” যদিও এই বিষয়ে সব্যসাচী দত্তের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তদন্তকারীদের এখন পরবর্তী লক্ষ্য—টিনার আয়ের উৎস এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে আর কারা কারা সরাসরি জড়িত, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা। সব মিলিয়ে, এই নতুন নাম সামনে আসার পর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।