ঐতিহাসিক সমঝোতা! পারমাণবিক নজরদারিতে সম্মত ইরান, হরমুজ প্রণালী খুলে দিল আমেরিকা

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে একটি বড় শান্তি চুক্তিতে উপনীত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন যে, তেহরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক নজরদারি চালাতে সম্মত হয়েছে। বিনিময়ে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে এবং ইরানের ওপর আরোপিত আর্থিক নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
শান্তি চুক্তির মূল দিকসমূহ ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘পারমাণবিক অখণ্ডতা’ নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চুক্তির মূল শর্তগুলো হলো:
-
পারমাণবিক নজরদারি: ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকদের তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় ফিরে আসার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে।
-
হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার এই প্রণালী দিয়ে রেকর্ড ১ কোটি ৯০ লক্ষ ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে সহায়ক হবে।
-
নিষেধাজ্ঞা শিথিল: আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ ইরানের তেল, পেট্রোকেমিক্যাল এবং সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
চুক্তি নিয়ে বিপরীতমুখী বক্তব্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই ঘটনাকে আমেরিকার জন্য একটি “মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গেছে। যদিও তেহরান এই আলোচনার অগ্রগতি স্বীকার করেছে, তবুও তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, তারা পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে নতুন কোনো বাড়তি ছাড় দেয়নি। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি তাদের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ওপর নির্ভর করবে।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন, “আমাদের কাছে এখন দুটি বড় অর্জন—একটি উন্মুক্ত হরমুজ প্রণালী এবং এমন একটি দেশ (ইরান) যা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।” তিনি আরও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি ইরান এই চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে বা অসংলগ্ন আচরণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা কমবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি তেলের দাম আরও স্থিতিশীল হবে। তবে এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার কতটা মসৃণ হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব।