তৃণমূলের দখলদারি কার? বিধানসভায় ‘গৃহযুদ্ধ’র দোরগোড়ায় দুই শিবির, হাসলেন শুভেন্দু!

‘তোমাদের কোনটা আসল, কোনটা নকল…’—হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গানের এই লাইন যেন এখন পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বাস্তব ছবি। বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে এদিন যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের স্নায়ুযুদ্ধ প্রকাশ্যে এল, তা রীতিমতো নজিরবিহীন। আর এই ‘গৃহযুদ্ধ’ দেখে বিধানসভার অন্দরে বেশ উপভোগ করতে দেখা গেল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে।

বিধানসভায় দুই শিবিরের সম্মুখ সমর এদিন রাজ্যপালের জবাবি ভাষণের সময় বিধানসভার অন্দরমহল ছিল উত্তপ্ত। তৃণমূলের দুই শিবির—কুণাল ঘোষের নেতৃত্বাধীন মমতা-পন্থী এবং ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী—একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে ছাড়েননি। কুণাল ঘোষ যখন নারী নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে ঋতব্রতকে ‘ধর্ষণে অভিযুক্ত’ বলে কটাক্ষ করেন, তখন বিধানসভায় হট্টগোল তুঙ্গে ওঠে। পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে ঋতব্রতও মমতার অতীত মন্তব্যের সমালোচনা করে স্পষ্ট করে দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি আর নেত্রী হিসেবে মানেন না।

শুভেন্দুর রাজনৈতিক চাল পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দিতে ওঠেন। তিনি ঋতব্রতকে ‘বিরোধী দলনেতা’ বলে সম্বোধন করে একপ্রস্থ শ্লেষ ঝাড়েন। অথচ, একদিন আগেই ঋতব্রতর ডাকা বিশেষ অধিবেশনে মমতাকে চেয়ারপার্সনের পদ থেকে সরানোর ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপরেই দুর্নীতি দমনের কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল জমানার সব দুর্নীতির তদন্ত হবে।

দুর্নীতি ইস্যুতে নতুন সমীকরণ মুখ্যমন্ত্রীর দুর্নীতির তদন্তের কথা শুনেই কুণাল ঘোষ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, যারা ‘ভালো তৃণমূল’ সাজার অভিনয় করছে, তাদের যেন রেহাই না দেওয়া হয়। ঠিক এই মুহূর্তেই নাটকীয় মোড় আসে। শুভেন্দু অধিকারী কুণালের দিকে তাকিয়ে বলেন, “আমি কথা দিচ্ছি, আপনাদের কাছে ওই নেতাদের বিরুদ্ধে চাল চুরি, ত্রিপল চুরির মতো কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে জানান। আমরা ব্যবস্থা নেব।”

বিধানসভায় শাসকদলের এই ভাঙন এবং বিরোধী দলনেতার সঙ্গে কুণাল ঘোষের এই ‘কৌশলী সংলাপ’ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভাষণ চলাকালীন এক পর্যায়ে ঋতব্রত শিবির প্রতিবাদ জানিয়ে বিধানসভা কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান, যা প্রমাণ করে তৃণমূলের অন্দরে এখন কার্যত অহি-নকুল সম্পর্ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *