শেয়ার বাজারে রক্তক্ষরণ! ২২০ মিনিটে গায়েব ৫.৪১ লক্ষ কোটি, বড় পতনের কারণ কী?

মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ার বাজারের লেনদেন পর্বে দেখা গেল বড়সড় পতনের ছবি। মাত্র ২২০ মিনিটের ব্যবধানে সেনসেক্স ৭২২ পয়েন্ট পর্যন্ত পড়ে যায়। সেনসেক্স ও নিফটির এই ব্যাপক দরপতনের জেরে লগ্নিকারীদের প্রায় ৫.৪১ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ নিমেষেই উবে গেছে। আইটি খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা—এই দুইয়ের ধাক্কায় আজ দিশেহারা দলাল স্ট্রিট।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি দুপুর ২:২০ নাগাদ সেনসেক্স ৫৪৬ পয়েন্টের বেশি পতন নিয়ে ৭৬,৫৪৭ পয়েন্টে লেনদেন হচ্ছিল। লেনদেনের এক পর্যায়ে তা ৭৬,৩৭১ পয়েন্টের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। একইভাবে, নিফটি ২০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে ২৩,৯০৯ পয়েন্টের কাছাকাছি নেমে আসে। দিনের শুরুতে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে।

পতনের নেপথ্যে মূল কারণসমূহ: বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার পেছনে মূলত চারটি কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা:

  • দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি (KOSPI) সূচকের ধস: দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজারে ১০ শতাংশের বেশি পতন এবং স্যামসাং, এসকে হাইনিক্সের মতো दिग्गज সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানির শেয়ারের দামে ধস গোটা এশিয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

  • মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, যা মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এর ফলে ডিসেম্বরে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের মতো উদীয়মান বাজার থেকে পুঁজি সরিয়ে নিচ্ছেন।

  • আইটি খাতের সংকট: অ্যাকসেঞ্চার তাদের রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমানোয় বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতে ব্যয় সংকোচন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে ইনফোসিস, টিসিএস, উইপ্রো এবং এইচসিএল টেক-এর মতো ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলোর ওপর। এই স্টকগুলোতে ৩ শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে।

  • রুপির অবমূল্যায়ন: মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দর ০.১৬ শতাংশ কমে ৯৪.৮২-এর স্তরে পৌঁছেছে। মুদ্রা বাজারের এই দুর্বলতা বিদেশি লগ্নিকারীদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা বিএসই (BSE)-তে আজ টাটা স্টিল, টেক মাহিন্দ্রা এবং আদানি পোর্টসের মতো বড় মাপের শেয়ারের দাম ৩.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে, তাই বড় কোনো বিনিয়োগের আগে মাইক্রন টেকনোলজির ত্রৈমাসিক ফলাফলের দিকে নজর রাখা জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *