‘পিএ কমিটি অনুমোদন দিলেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত!’-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

দুর্নীতি ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এবার চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শুধুমাত্র জেল নয়, দুর্নীতিগ্রস্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এই সেসন শেষ হওয়ার আগেই এই সংক্রান্ত নতুন বিল আনা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেছেন।

দুর্নীতিবাজদের প্রতি কড়া বার্তা: বিধানসভার ফ্লোর থেকে কুণ্ঠাহীন ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শপথ নিয়েছি, এই রাজ্যে গুন্ডা-মাফিয়া-তোলাবাজ—একটাও জেলের বাইরে থাকবে না।” তিনি জানান, অনেকেই ভেবে থাকেন দু-চার মাস জেলে থেকে আইনি মারপ্যাঁচে জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসবেন। সেই পথ বন্ধ করতেই নতুন বিল আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই সেসনেই পিএ কমিটির অনুমোদন পেলে শেষ দিনে বিল আসছে। এরপর থেকে আর শুধু জেল নয়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।”

বিরোধী শিবিরকে বিঁধলেন শুভেন্দু: এদিন বিধাননগরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলনেতাকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “আজ মিডিয়াতে দেখা যাচ্ছে আপনাদের বড় নেতাদের বান্ধবীর বাড়ি থেকে কেজি কেজি সোনা উদ্ধার হচ্ছে। আগে ঠিক করুন আপনি কার পক্ষে বলবেন। আপনারা তথাকথিত ‘পুষ্পা’-র মতো ব্যক্তিদের সাসপেন্ড করেন না, অথচ দলের বিধায়কদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করেন। কার জন্য এখানে লড়াই করছেন? চোর-ডাকাতদের হয়ে সওয়াল বন্ধ করুন।”

পাথর খাদান নিয়ে বিস্ফোরক দাবি: বীরভূমের পাথর খাদান থেকে রাজস্ব আয়ের হিসেব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে বীরভূমের পাথর থেকে বছরে মাত্র ৬০ কোটি টাকা রাজস্ব মিলেছিল। অথচ তাঁর সরকার শপথ নেওয়ার মাত্র এক মাসেই ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বীরভূমের পাথর থেকে প্রাপ্ত ১১০০ কোটি টাকা ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাইয়ে পাচার করা হয়েছে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাষণে দুর্নীতির প্রশ্নে তিনি যে কতটা আপসহীন, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল। বিরোধী দলনেতার দিকে তাঁর এই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ও পরিসংখ্যান দিয়ে আক্রমণ বিধানসভার অন্দরে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *