“জন্মদিনের ট্রেকিং ছিল মৃত্যুফাঁদ!”-হবু স্ত্রীর খুনের ঘটনায় শিউরে ওঠা তথ্য পুলিশের হাতে

বিয়ের জন্য রাজস্থানে বুক করা হয়েছিল ১৭ কোটির রাজকীয় প্রাসাদ, অতিথিদের জন্য ঠিক ছিল ব্যক্তিগত বিমান। সবকিছুই ছিল সাজানো। কিন্তু সেই স্বপ্নের বিয়ের আগেই ঘটল মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ড। পুণের তরুণ ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং তাঁর হবু স্ত্রী সিয়া গোয়ালের পাতানো একটি পূর্বপরিকল্পিত ‘মৃত্যুফাঁদ’ ছিল বলে অভিযোগ।

কীভাবে ঘটল ঘটনা? গত ১৮ জুন নিজের জন্মদিন উপলক্ষে লোনাভালার ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গে কেতনকে নিয়ে ট্রেকিংয়ে যান সিয়া। সিয়ার দাবি ছিল, ছবি তুলতে গিয়ে পা পিছলে খাদে পড়ে গিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী কেতন। তিন ঘণ্টার তল্লাশিতে দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করলেও, কেতনের অভিজ্ঞ ট্রেকার হওয়ার বিষয়টি তদন্তকারীদের সন্দেহ বাড়ায়।

তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য: তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই বেরিয়ে এসেছে ষড়যন্ত্রের জাল। পুলিশের দাবি, সিয়ার সঙ্গে গত এক বছর ধরে চেতন চৌধুরী নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পুলিশ সুপার সন্দীপ সিং গিল জানিয়েছেন, কেতনকে বিয়ে করতে না চাওয়ার কারণেই এই খুনের পরিকল্পনা করা হয়। জেরায় অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে যে, পরিকল্পনা অনুযায়ী দুর্গের নির্জন স্থানে কেতনকে ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে গভীর খাদে ঠেলে দেওয়া হয়।

শোকস্তব্ধ পরিবার: ফেব্রুয়ারিতে বাগদান সম্পন্ন হওয়ার পর নভেম্বর মাসে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল কেতন ও সিয়ার। কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “বিয়ে করতে না চাইলে সিয়া অনায়াসেই সম্পর্ক ভেঙে দিতে পারত, আমরা তাতে বাধা দিতাম না। কিন্তু আমার ২৬ বছরের সন্তানকে এভাবে খুন করার সিদ্ধান্ত সে কীভাবে নিতে পারল?”

আইনি পদক্ষেপ: ঘটনার তদন্তে মোবাইল কল রেকর্ড ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ সিয়া গোয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩ (খুন) এবং ৬১(২) (ষড়যন্ত্র) ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে তোলা হয়েছে। বিয়ের সাজ সাজ রব এখন পরিণত হয়েছে এক গভীর শোকের ছায়ায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *