ভারতের শক্তিশালী অস্ত্রের খোঁজে UAE, ব্রহ্মোস ও আকাশতীর কিনতে আগ্রহ প্রকাশ

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হওয়ার প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। আর এই লক্ষ্যপূরণে তাদের প্রথম পছন্দ এখন ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। বিশেষ করে ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র এবং স্বয়ংক্রিয় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ‘আকাশতীর’ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আবু ধাবি।
কেন ভারতীয় অস্ত্র পছন্দ করছে UAE?
১. প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব: আকাশতীর (Akashteer) হলো ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি বিশ্বের অন্যতম সেরা অটোমেটেড এয়ার ডিফেন্স কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম। এটি শত্রু বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রকে অত্যন্ত দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম।
২. ডাইভার্সিফিকেশন: এতদিন পর্যন্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য মূলত আমেরিকা ও ইউরোপের ওপর নির্ভরশীল ছিল UAE। তবে এখন তারা তাদের প্রতিরক্ষা বাস্কেটকে আরও বহুমুখী বা ডাইভার্সিফাই করতে চাইছে।
৩. নিরাপত্তা ও কৌশল: বিশেষ করে ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে UAE ভারতের এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলোকে তাদের সেনাবাহিনীর জন্য অত্যন্ত কার্যকরী মনে করছে।
ব্রহ্মোস ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ: ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। তবে যেহেতু এটি ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি, তাই ইউএই-তে রফতানির জন্য রাশিয়ার অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মস্কো ও আবু ধাবির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে এই অনুমোদন পাওয়া খুব একটা কঠিন হবে না।
এই চুক্তি কেবল অস্ত্র বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। গত কয়েক বছরে বাণিজ্য, জ্বালানি ও বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও UAE-এর সম্পর্ক এক উচ্চতর স্তরে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির আবহে ভারতের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠতা আবু ধাবির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত (Strategic) সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে তা ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে একটি বিরাট বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে।
ভারতের তৈরি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কি আগামী দিনে বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতের স্থান আরও মজবুত করবে? আপনার মতামত জানান।