সোশ্যাল মিডিয়ায় উগ্রপন্থার জাল: রাজস্থান এটিএস-এর জালে পাক-যোগ থাকা তরুণী

বড়সড় সাফল্য পেল রাজস্থান অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)। পাকিস্তানভিত্তিক কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন ‘জয়েশ-ই-মহম্মদ’ (JeM)-এর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অভিযোগে জয়পুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ববিতা ধাকার নামের এক মহিলাকে। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে রেখেছিলেন ‘খাদিজা’।

চরমপন্থার পথে যেভাবে: গঙ্গাপুর সিটির বাসিন্দা ববিতা গত কয়েক বছর ধরে জয়পুরে বসবাস করছিলেন। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে চরমপন্থী মতাদর্শের সংস্পর্শে আসেন। পাকিস্তানে অবস্থানকারী এক মুফতির সঙ্গে অনলাইনে দীর্ঘ সময় কথা বলার পর তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ফোনে কলমা পড়ে ধর্মান্তরিত হন। এরপর থেকেই তিনি ‘খাদিজা’ নাম ব্যবহার শুরু করেন।

ডিজিটাল নেটওয়ার্কের ভয়াবহতা: রাজস্থান এটিএস-এর প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে পাকিস্তানের একাধিক সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে উগ্রপন্থী প্রচারমূলক কনটেন্ট, অস্ত্রধারী জঙ্গিদের ছবি এবং বিদেশি সংযোগের একাধিক তথ্য মিলেছে। গোয়েন্দাদের অনুমান, এই যোগাযোগ কেবল মতাদর্শগত সমর্থনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তাঁকে পাকিস্তানে পাচারের বা কোনো বড় নাশকতার পরিকল্পনাও করা হচ্ছিল।

নিরাপত্তা সংস্থার সতর্কবার্তা: গত ২১ জুন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাজস্থান এটিএস একটি বিশেষ অভিযান চালায়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর পর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের ব্যবহৃত মোবাইল, ল্যাপটপ এবং সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন সরাসরি হামলার চেয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ‘ব্রেনওয়াশ’ করে স্লিপার সেল হিসেবে গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে। এই ঘটনাটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *