তৃণমূলের অন্দরে ‘অপারেশন ক্লিন’! অভিষেককে সাসপেন্ড, বড় পদে অরূপ-ফিরহাদ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশের দিনেই জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে ঘটে গেল ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন ঘটনা। নিউটাউনের নভোটেলে আয়োজিত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের মেগা বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বৈঠকের প্রধান আপডেটসমূহ:
-
মমতাকে বাদ দিয়ে কমিটি: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে গঠিত নতুন ওয়ার্কিং কমিটিতে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনো পদেই রাখা হয়নি। এটি তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে সম্ভবত সবথেকে বড় সাংগঠনিক ফাটল।
-
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাসপেন্ড: দলের বিদ্রোহী নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সূত্রের খবর, দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণ দেখিয়েই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
-
নেতৃত্বের রদবদল: অরূপ রায়কে দলের প্রেসিডেন্ট বা চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা অরূপ বিশ্বাস এবং ফিরহাদ হাকিমকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট বা সহ-সভাপতির গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
-
শক্তির মহড়া: বৈঠকে তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক, প্রভাবশালী নেতা এবং সাংগঠনিক স্তরের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নভোটেলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি কার্যত মমতার নেতৃত্বকে অস্বীকার করে একটি সমান্তরাল তৃণমূল গঠনের চূড়ান্ত রূপরেখা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কেন এই পরিস্থিতি? দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্দরে সাংগঠনিক অচলাবস্থা এবং কর্মপদ্ধতি নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একগুচ্ছ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। আজ বিজেপি সরকারের বাজেট পেশের দিনকে বেছে নিয়ে তাঁরা একযোগে মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। বিদ্রোহীদের দাবি, দলের সংবিধান মেনেই এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব: এই ঘটনার পর বাংলার রাজনীতিতে দুটি ভিন্ন তৃণমূলের অস্তিত্ব প্রকাশ পেল। একদিকে কালীঘাটের মমতা-অভিষেক শিবির, অন্যদিকে নিউটাউনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী। জোড়াফুল প্রতীকের মালিকানা কার কাছে থাকবে এবং বিধানসভায় বিধায়কদের বড় অংশ কার পাশে দাঁড়াবেন—তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে তীব্র জল্পনা।