এল নিনোর ভ্রুকুটি, চাপে কৃষক! বিধানসভার অধিবেশনে বিরোধীদের কোন কৌশলে বাগে আনবেন ফড়নবীশ?

আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হতে চলেছে মহারাষ্ট্র বিধানসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বর্ষাকালীন অধিবেশন। তবে অধিবেশন শুরুর আগেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপের পারদ তুঙ্গে। একদিকে এল নিনোর প্রভাবে খরা ও চাষাবাদ নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে কৃষক ঋণ মওকুফ—সব মিলিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
সংলাপে আগ্রহী সরকার, পাল্টা তোপ বিরোধীদের অধিবেশনের প্রাক্কালে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার আলোচনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমরা সংলাপের পক্ষে। বিরোধীরা যদি রাজনীতি করতে চায়, তবে রাজনীতির ভাষাতেই জবাব দেওয়া হবে। আর যদি জনস্বার্থে আলোচনা করতে চায়, তবে সরকার সেই পথেও হাঁটতে প্রস্তুত।”
১০টি নতুন বিলের ঘোষণা তিন সপ্তাহব্যাপী এই অধিবেশনে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার মোট ১০টি বিল পেশ করবে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো—নারী কৃষকদের আইনি মর্যাদা প্রদানের বিশেষ বিল। ৩৬,৫৮৬ কোটি টাকার কৃষক ঋণ মওকুফ কর্মসূচি নিয়েও তিনি বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
বিরোধীদের মাথাব্যথা এল নিনো ও প্রস্তুতি অন্যদিকে, মহা বিকাশ আঘাড়ি (MVA) জোটের দাবি, সরকার জনস্বার্থ নিয়ে যতটা প্রচার করছে, কাজে ততটা নয়। বিশেষ করে এল নিনোর প্রভাবে এ বছর রাজ্যে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির অভাব এবং ঋণ মওকুফের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন মহারাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে জনমুখী বিলের মাধ্যমে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা, আর অন্যদিকে বিরোধীদের কঠোর প্রশ্নে বিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে আগামী তিন সপ্তাহ রাজ্য বিধানসভার অন্দরে বড় ধরণের লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে মহারাষ্ট্র।