CORONA: করোনা থেকে বাঁচতে ‘অদ্ভুত’ মাস্ক, আরাম করে রেস্তোরাঁয় খাচ্ছেন যুবক!

চীনে ফের ব্যাপক হারে বেড়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। দেশটিতে বিক্ষোভের মুখে জিরো কোভিড নীতি বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এই সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রত্যেক দিন কোটি কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বর্তমানে দেশটিতে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে ব্যাপক শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাঁড়া ফেলেছে চীনের একটি রেস্তোরাঁয় এক ব্যক্তির অদ্ভূত মাস্ক পরে খাবার খাওয়ার কৌশলে। ঠোঁটের আকৃতির মাস্ক পরিহিত ওই ব্যক্তির খাওয়ার ভিডিও দেখে অনেক মানুষ অবাক হয়েছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, দেশটির একটি শহরের রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া করছেন এক ব্যক্তি। মুখের মাস্কটি ভারী কাগজ ব্যবহার করে পাখির দীর্ঘ ঠোঁটের মতো করে বানানো হয়েছে। তিনি যখন খাবার খাচ্ছেন, তখন পাখির ঠোঁটের মতো তার মাস্কটি খুলে যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে সাফির নামের এক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি টুইট করা হয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘কোভিডের ভয় থাকা সত্ত্বেও মাস্ক পরে আমার মতো ষাঁড় আজ খাচ্ছে।’

টুইটারে ১৭ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি ইতোমধ্যে ১৯ হাজারের বেশি মানুষ দেখেছেন। অনেকেই টুইটে হাসির ইমো জুড়ে দিয়েছেন। অনেক টুইটার ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, আমি এই মাস্ক কোথায় পাবো? অন্য একজন লিখেছেন, হা হা হা হা।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে এক দিনে দেশটিতে অন্তত ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। আর সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ করোনা প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হয়ে উঠেছে চীন।

শুক্রবার দেশটির সরকারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরের প্রথম ২০ দিনে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন; যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১৮ শতাংশ। সেই হিসাবে দৈনিক সংক্রমণ গড়ে ১ কোটি ২২ লাখ।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে চীনে দৈনিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল ৪০ লাখ মানুষ। সেই সংখ্যাকেও এবার ছাড়িয়ে গেছে দেশটি। বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনার সংক্রমণ এই দেশে। যা চীনকে করোনার চতুর্থ ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের ধারণা, দেশটিতে এবার করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সিচুয়ান প্রদেশ এবং রাজধানী বেজিংয়ের অর্ধেকেরও বেশি বাসিন্দা এতে সংক্রমিত হয়েছেন।

মহামারি থেকে রক্ষার কৌশল সম্পর্কে জনগণকে সঠিক সময়ে তথ্য সরবরাহ করতে না পারা এবং বয়স্কদের টিকাদানে ব্যর্থতার কারণে দেশটিতে ভাইরাসটির ব্যাপক উত্থান ঘটেছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।

ভিডিওটি দেখুন…

সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *