“পরমাণু অস্ত্র বানাব না, তবে শর্ত আছে!”-আমেরিকার সঙ্গে মেগা বৈঠকে এবার ইরান

পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই সুইৎজ়ারল্যান্ডে শুরু হয়েছে আমেরিকা, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক। একদিকে লেবাননে ইজ়রায়েল-হেজবোল্লা সংঘাত, অন্যদিকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার অমীমাংসিত চুক্তির শর্ত—সব মিলিয়ে এই আলোচনাকে ঘিরে বিশ্বরাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়: ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম IRIB-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকের মূল ফোকাস হলো দুটি বিষয়: ১. লেবাননে যুদ্ধবিরতি: অবিলম্বে লেবাননে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামাতে ইজ়রায়েলকে বাধ্য করুক আমেরিকা, এমনটাই দাবি তেহরানের। ২. ইরানের স্থাবর সম্পত্তি: বিদেশে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের সম্পদ দ্রুত মুক্ত করা।
কঠিন শর্ত তেহরানের ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চুক্তির প্রধান শর্তই হলো ‘সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি’। লেবাননে যুদ্ধ না থামলে ইরান চুক্তি থেকে সরে আসার হুমকিও দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, এই শর্তে ঘোর আপত্তি রয়েছে ইজ়রায়েলের, যা নতুন করে কূটনৈতিক জটিলতা বাড়িয়েছে।
পরমাণু বিতর্ক ও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা বৈঠকের আবহেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন:
-
ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করতে আগ্রহী নয় এবং প্রয়োজনে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতেও প্রস্তুত।
-
তবে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের (Uranium Enrichment) অধিকার ইরান কোনোভাবেই ছাড়বে না।
প্রেসিডেন্টের মতে, আমেরিকার সঙ্গে হওয়া নতুন সমঝোতা চুক্তির শর্তগুলি তেহরানের জন্য ইতিবাচক এবং তারা আশাবাদী যে শীঘ্রই আটকে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল তাদের হাতে আসবে।
গোটা বিশ্বের নজর এখন সুইৎজ়ারল্যান্ডে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইজ়রায়েল আমেরিকার চাপানো শর্ত কতটা মেনে নেয় এবং আমেরিকা-ইরান আদৌ দীর্ঘমেয়াদী কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। এই সংঘাত প্রশমিত হবে, নাকি নতুন কোনো অস্থিরতার দিকে এগোবে পশ্চিম এশিয়া, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।