মুলতানি মাটি না চন্দন? গরমে ত্বকের জেল্লা ফেরাতে আসল ‘ম্যাজিক’ কোনটি?

তীব্র দাবদাহ, অসহ্য গরম আর ধুলোবালিতে মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কি হারিয়ে যাচ্ছে? এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া রূপচর্চার কথা ভাবলেই যে দুটি নাম সবার আগে মাথায় আসে, তা হলো—মুলতানি মাটি ও চন্দন। কিন্তু রূপচর্চার এই লড়াইয়ে আপনার ত্বকের জন্য ঠিক কোনটি কার্যকর?
তৈলাক্ত ত্বকের ত্রাতা মুলতানি মাটি গ্রীষ্মের গরমে ত্বক যদি অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে ওঠে, তবে মুলতানি মাটি আপনার পরম বন্ধু। এটি ত্বকের গভীরে জমে থাকা অতিরিক্ত সিবাম ও ময়লা শুষে নিতে ওস্তাদ। মুলতানি মাটির নিয়মিত ব্যবহারে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস এবং ব্রণের উপদ্রব অনেকটাই কমে যায়। তবে মনে রাখবেন, ত্বক যদি অত্যন্ত শুষ্ক বা সংবেদনশীল হয়, তবে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
ত্বকের শীতলতায় চন্দনের জাদু প্রখর রোদে বাইরে থেকে ফিরে ত্বক জ্বালাপোড়া করা বা লালচে হয়ে যাওয়া সাধারণ সমস্যা। এক্ষেত্রে চন্দনের জুড়ি মেলা ভার। এটি ত্বককে দেয় তাৎক্ষণিক শীতল অনুভূতি। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ জেদি দাগ, পিগমেন্টেশন ও কালচে ছোপ দূর করে ত্বককে করে তোলে উজ্জ্বল ও সতেজ। স্বাভাবিক, শুষ্ক এবং সংবেদনশীল—সব ধরনের ত্বকের জন্যই চন্দন দারুণ নিরাপদ।
ত্বক বুঝে বেছে নিন সঠিক প্যাক:
-
তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বক: মুলতানি মাটির সাথে গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
-
শুষ্ক বা কালচে ত্বক: চন্দন গুঁড়োর সাথে সামান্য কাঁচা দুধ বা মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন।
মিশ্র ত্বকের জন্য ‘মাস্টার প্যাক’ আপনার ত্বক কি মিশ্র প্রকৃতির? অর্থাৎ কপাল ও নাক (টি-জোন) তৈলাক্ত কিন্তু গাল শুষ্ক? তবে আপনার জন্য সেরা উপায় হলো এই দুটির সংমিশ্রণ। এক চা চামচ মুলতানি মাটি, আধা চা চামচ চন্দন গুঁড়ো এবং সামান্য টক দই মিশিয়ে তৈরি করে নিন বিশেষ ফেস প্যাক। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক রেখে অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।
পরিশেষে, যেকোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের আগে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়া জরুরি। সঠিক উপাদানের সঠিক ব্যবহারই আপনাকে দিতে পারে গ্রীষ্মের প্রখর রোদেও সতেজ ও উজ্জ্বল ত্বক।