দলের টাকায় চার্টার্ড বিলাসিতা? অভিষেককে বিঁধে কুণালের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে শোরগোল!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আর্থিক লেনদেন ও দলীয় তহবিল নিয়ে বিতর্ক এখন চরমে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি সফর নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তরজা। বিশেষ করে যখন দলের বিদ্রোহী বিধায়কদের পক্ষ থেকে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ (Freeze) করার আর্জি জানানো হয়েছে, তখন এই বিলাসবহুল সফর ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলেরই একাংশ।

বিতর্কের প্রেক্ষাপট: দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্কে চিঠি পাঠিয়ে তৃণমূলের মূল অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বিধায়ক শিবিরের দাবি, দলীয় অ্যাকাউন্টের অর্থের উৎস স্বচ্ছ নয়। তাদের অভিযোগ, এই টাকা কাটমানি বা তোলাবাজির হতে পারে। এই সন্দেহ থেকেই বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় তদন্তের দাবি জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন ১০ জন বিধায়ক।

কুণালের নিশানায় অভিষেক: এই আবহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি যাওয়া নিয়ে সরাসরি অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ ফ্লাইটে গিয়েছেন নাকি চার্টার্ডে, তা আমি জানি না। তবে পার্টির টাকা খরচ করে যদি কেউ বিমান ভাড়া করে গিয়ে থাকেন, তবে আমি কোনোমতেই তা সমর্থন করি না।” দলীয় সংকটের এই সময়ে এই মন্তব্য দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

অভিষেকের পাল্টা জবাব: নিজের সফর নিয়ে ওঠা যাবতীয় বিতর্কের প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা আমার যাতায়াত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা যদি লিখিত দিয়ে দেন যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইকোনমি ক্লাসেই যাত্রা করবেন, তবে আমি তা ভেবে দেখব। আমার পাশে বসে অনেকেই ভ্রমণ করেছেন, যা আমি আইনি পরামর্শ মেনেই করি।” কুণাল ঘোষের মন্তব্যের বিষয়ে তিনি সংযত থেকে জানান, সহকর্মীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা আক্রমণ করতে তিনি আগ্রহী নন।

রাজনীতির অন্দরে কানাঘুষো: উল্লেখ্য, একদিকে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে অভিষেক দিল্লিতে গিয়েছেন, অন্যদিকে দলের অন্দরে বিদ্রোহী শিবিরের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। দলের কোষাগারে যখন টান পড়ার ইঙ্গিত, তখন এই চার্টার্ড বিমানের খরচ কে বহন করছে—সেই প্রশ্ন এখন কর্মীদের মুখে মুখে। আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশ ও বিদ্রোহী বিধায়কদের সক্রিয়তায় তৃণমূলের এই অন্দরমহলের লড়াই আপাতত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *