কর্নাটকে ‘উলটপুরাণ’: গেরুয়া শিবিরে বড় ফাটল ধরিয়ে রাজ্যসভায় বাজিমাত কংগ্রেসের, ‘বিভীষণ’দের খোঁজে বিজেপি

ঝাড়খণ্ডের রাজ্যসভা ভোটে বিজেপি ‘অপারেশন লোটাস’-এ সফল হলেও, কর্নাটকে ঘটল ঠিক তার উল্টো ঘটনা। কংগ্রেসের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরেই রাজ্যসভার লড়াইয়ে এনডিএ শিবিরে বড়সড় ফাটল ধরিয়ে পঞ্চম আসনটি ছিনিয়ে নিল কংগ্রেস। বিরোধী শিবিরের ১১ জন বিধায়কের ‘ক্রস ভোটিং’-এ বিজেপির নিশ্চিত জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল।
কীভাবে ঘটল এই অঘটন? হিসাব অনুযায়ী, কর্নাটকের ওই পঞ্চম আসনটি পাওয়ার কথা ছিল এনডিএ-র শরিক দল জনতা দল সেকুলারের (জেডিএস)। কিন্তু ভোটের ফলে দেখা যায়, বিজেপির ১১ জন বিধায়ক সরাসরি কংগ্রেসের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিধায়কদের এই দলবদল বা ‘ক্রস ভোটিং’ কর্নাটকের রাজনীতিতে এক নতুন শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
দিল্লিতে তলব বিজেপি সভাপতিকে: এই বিপর্যয়ের খবর পৌঁছাতেই নড়েচড়ে বসেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের রাজ্য সভাপতি বিজয়েন্দ্রকে দ্রুত দিল্লিতে তলব করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই তিনি রাজধানীতে পৌঁছে গিয়েছেন এবং সন্ধ্যায় বিজেপি সভাপতি নিতিন নবিনের সঙ্গে তাঁর জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা। কীভাবে বিরোধী শিবিরে এত বড় থাবা বসিয়ে কংগ্রেস আসনটি জিতে নিল এবং কারা এই ‘বিভীষণ’—তা নিয়ে রাজ্য সভাপতির কাছে কড়া জবাবদিহি চাইবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক গুরুত্ব: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমারের বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরানোর দক্ষতা এই ভোটের মাধ্যমে ফের প্রমাণিত হলো। একদিকে যেখানে ঝাড়খণ্ডে বিজেপি কংগ্রেসের আসন কেড়ে নিচ্ছে, সেখানে কর্নাটকে বিজেপির জোটের ১১টি ভোট কংগ্রেসের দিকে চলে যাওয়া এনডিএ-র অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়ায় বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কর্নাটকের এই ঘটনা বিজেপির রাজ্য সংস্থায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, দলের অন্দরে এই ‘বিভীষণ’দের বিরুদ্ধে দিল্লি কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।