বাগনান কাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি শুভেন্দুর: সরাসরি CID তদন্তের নির্দেশ, নবান্ন থেকে কড়া বার্তা!

হাওড়ার বাগনানে বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে (৫০) খুনের ঘটনায় বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, শুক্রবার নবান্নে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার সরাসরি রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)-কে হস্তান্তর করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি নিহত প্রশান্ত দে-র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসার পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ঘটনায় রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, “প্রশান্ত দে মার্ডার কেসটি আমি সিআইডি-কে ট্রান্সফার করছি। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকে পরিবারকে আরও ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্য সোমা দে যদি কর্মসংস্থানের ব্যাপারে ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে সরকার সবরকমভাবে পাশে দাঁড়াবে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসার দায়িত্বও রাজ্য সরকার নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, আইনের শাসন: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া সুরে বার্তা দেন যে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, “পুলিশের ওপর আস্থা রাখুন। পুলিশ অপরাধীদের ধরবে এবং প্রয়োজনে সিআইডি বা এসটিএফ-এর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। যারা অপরাধ করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয় নয়, আমরা দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।”
কী ঘটেছিল? অভিযোগ, গত বুধবার রাতে একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে বাগনানে তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত উপপ্রধান শেখ মফিজুল ইসলাম ও তার সঙ্গীদের হাতে আক্রান্ত হন বিজেপি কর্মীরা। লোহার রড ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত প্রশান্ত দে-কে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় বাগনান থানায় খুনের মামলা দায়ের হওয়ার পর পুলিশ ইতিমধ্যে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।