ভোটের হাওয়া বদলাতেই বিপদ! স্কুলে না গিয়ে বেতন নেওয়া শিক্ষক-নেতাকে ডিম ছুড়ে ‘শিক্ষা’ এলাকাবাসীর

দীর্ঘ ১০ বছর স্কুলে না গিয়েও দিব্যি তুলেছেন সরকারি বেতন! ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্কুলের বদলে রাজনৈতিক ময়দান সামলানো মালদার বামনগোলা সার্কেলের পার হবিনগর প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমল কিস্কুর বিরুদ্ধে ওঠা এই বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কী অভিযোগ? অভিযোগ, ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে হবিবপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই স্কুলের সাথে কার্যত সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলেন অমল কিস্কু। জেলার প্রভাবশালী আদিবাসী নেতা হয়ে ওঠার সুবাদে স্কুল আসা প্রায় বন্ধ করে দেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও মাসের শেষে নিয়মিত বেতন তুলেছেন এই শিক্ষক-নেতা। শুধু তাই নয়, নিজের বদলে স্কুলে ক্লাস করানোর জন্য এক যুবককে ‘প্রক্সি’ হিসেবে নিয়োগ করার চেষ্টাও করেছিলেন তিনি, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
হাওয়া বদলাতেই বিপাকে অমল ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই অমলের ‘সুখের দিন’ শেষ। এখন তিনি নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছেন এবং ক্লাসও করছেন। কিন্তু এতদিন স্কুলে না এসে বেতন নেওয়ার ‘পাপ’ ধামাচাপা দিতে পারছেন না তিনি। স্কুলে ঢুকতে গিয়ে স্থানীয়দের ডিম হামলারও শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। তবুও পিঠ বাঁচাতে এখন বাধ্য হয়েই স্কুলে হাজিরা দিচ্ছেন এই তৃণমূল নেতা।
প্রশাসনের কী বক্তব্য? দীর্ঘদিন অভিযোগ থাকার পরেও কেন এতদিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এই প্রশ্নে জেলা প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শক মলয় মণ্ডল জানান, এলাকাবাসীর মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের কাছে এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পেলেই আমরা বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেব।”
নিজে কী বলছেন অমল কিস্কু? সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের দোষ স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেননি তিনি। উল্টে তাঁর সাফ কথা, যা জানানোর প্রশাসনিক কর্তাদেরই জানাবেন।
ক্ষমতার পালাবদলের পর অভিযুক্ত শিক্ষকের এই হঠাৎ ‘কর্তব্যপরায়ণ’ হয়ে ওঠা নিয়ে মালদার শিক্ষা মহলে চলছে জোর চর্চা। এখন দেখার, প্রশাসন সত্যিই কোনো তদন্তে নামে, নাকি দায়সারা সতর্কবার্তা দিয়েই শেষ হবে এই অধ্যায়।