১৫ বছরের বিশ্বস্ত পরিচারিকাকে নৃশংস খুন! দিল্লি কাঁপানো ঘটনায় অভিযুক্ত খোদ চিকিৎসক

পনেরো বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক। যে পরিচারিকা দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যের মতো অসুস্থ শাশুড়ির সেবা করেছেন, তাঁকেই নৃশংসভাবে প্রাণ দিতে হলো সেই বাড়িরই কর্তার হাতে। দিল্লির অভিজাত মাউন্ট কৈলাশ এলাকার আবাসনে ৪৫ বছর বয়সি বাঙালি পরিচারিকা মীনা হালদারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুনের ঘটনায় তোলপাড় রাজধানী। ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক মণীশ গুপ্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট পুলিশ সূত্রে খবর, মণীশ গুপ্ত পেশায় একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। গত ১৫ বছর ধরে মীনা হালদার তাঁর বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করছিলেন। মীনার কাজে কোনোদিন কোনো খুঁত ছিল না, এমনকি মণীশের ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের দেখভালের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি মণীশ জেদ ধরেছিলেন, মীনাকে কাজ থেকে ছাঁটাই করতে হবে। মণীশের স্ত্রী বারবার তাঁকে বাধা দিলেও মণীশ নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
তদন্তে উঠে এল এক গা শিউরে ওঠা তথ্য প্রাথমিক জেরায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের অদ্ভুত মানসিকতার পরিচয় মিলেছে। মণীশ পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তিনি বিশ্বাস করতেন মীনার উপস্থিতিতেই বাড়িতে ‘অশুভ শক্তি’ বাসা বেঁধেছে। এই অন্ধবিশ্বাস থেকেই কি খুন? যদিও পুলিশ এখনও কোনো শক্ত প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে।
কীভাবে ঘটল হত্যাকাণ্ড? বৃহস্পতিবার সকালে যখন বাড়িতে কেউ ছিলেন না, তখন মীনাকে আবাসনের ছাদে ডেকে পাঠান মণীশ। এরপর যা ঘটল:
-
প্রথমে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে মীনাকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন মণীশ।
-
এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ছুরি দিয়ে তাঁর শরীরে একাধিক আঘাত করা হয়।
-
রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে আবাসনের অন্য বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তমাখা ব্যাট ও ছুরি উদ্ধার করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে, হত্যাকাণ্ডের পর মণীশ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাননি; দেহটি যেখানে পড়ে ছিল, তার কিছুদূরেই তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের মানসিক স্থিতি পরীক্ষা করার পাশাপাশি, খুনের নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।