“ছেলেকে অপহরণ করা হয়নি, খুন করা হয়েছে!” প্রেমিকের সাথে মিলে ছক কষলেন মা, নৃশংসতায় স্তব্ধ মিরাট

উত্তর প্রদেশের মিরাটে এক ছয় বছর বয়সী শিশুকে অপহরণের অভিযোগ ঘিরে যে রহস্য দানা বেঁধেছিল, তার সমাপ্তি ঘটল এক হৃদয়বিদারক সত্য উন্মোচনের মাধ্যমে। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য—শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে ছিল কোনো বাইরের অপহরণকারী নয়, বরং তার নিজের মা ও মায়ের প্রেমিক। সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় নিষ্পাপ সন্তানকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন তারা।
ঘটনার সূত্রপাত: গত ১৬ জুন বাহুসুমা থানা এলাকায় এক ছয় বছরের শিশু নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করে তার পরিবার। অভিযোগে বলা হয়, মুজাফফরনগরের বাসিন্দা অর্পিত শর্মা নামের এক যুবক শিশুটিকে জোর করে একটি ওয়াগনআর গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে। অপহরণের এই অভিযোগ পুলিশের নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে নিয়ে পুলিশি তদন্তের একাধিক টিম গঠন করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে এল নির্মম সত্য: প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অর্পিত শর্মাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। দীর্ঘ জেরার মুখে ভেঙে পড়ে অর্পিত। সে স্বীকার করে যে, শিশুটির মা গুরপ্রীত কৌরের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের এই অবৈধ সম্পর্কের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ৬ বছরের ওই শিশু। প্রেমিক ও প্রেমিকা দুজনে মিলে পরিকল্পনা করে শিশুটিকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার।
জঙ্গল থেকে উদ্ধার মরদেহ: অর্পিতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হস্তিনাপুরের একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় ওই শিশুর মৃতদেহ। সেই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং ঘাতক গাড়িটিও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। অপরাধের ধরন এতটাই নৃশংস যে, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযুক্ত মা গুরপ্রীত কৌরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুর দেহ পাঠানো হয়েছে। নিজের সন্তানের ওপর মায়ের এমন অমানবিক আচরণে স্তম্ভিত সমাজ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।