সিএনজি নাকি ফ্লেক্স ফুয়েল? সাশ্রয়ী গাড়ির লড়াইয়ে জয়ী হবে কে? জেনে নিন বিস্তারিত

ক্রমবর্ধমান জ্বালানির দামে পকেট বাঁচাতে ভারতীয় ক্রেতারা এখন বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন। সিএনজি (CNG) তো অনেকদিন ধরেই রাজত্ব করছে, কিন্তু এবার বাজারে এসেছে ‘ফ্লেক্স ফুয়েল’ (Flex Fuel) গাড়ি। মারুতি সুজুকি সম্প্রতি ভারতের প্রথম মাস-মার্কেট ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়ি ‘ওয়াগন আর’ লঞ্চ করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রানুং কস্ট এবং মাইলেজের দিক থেকে কোনটি বেশি লাভজনক?
সিএনজি-র জনপ্রিয়তা ও সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বাজারে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে সিএনজি এক নম্বর পছন্দ। এর অন্যতম কারণ হলো পেট্রোল বা ডিজেলের তুলনায় সিএনজি-র দাম অনেকটাই কম। বেশিরভাগ সিএনজি গাড়ি প্রতি কেজি জ্বালানিতে ২৫ থেকে ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিয়ে থাকে। যাদের প্রতিদিন অনেক কিলোমিটার ড্রাইভ করতে হয়, বিশেষ করে ট্যাক্সি অপারেটর বা নিয়মিত অফিসযাত্রীদের কাছে সিএনজি আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
ফ্লেক্স ফুয়েল: নতুন দিশা ফ্লেক্স ফুয়েল বা ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (যেমন E85, E100) ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। দিল্লিতে বর্তমানে E85 জ্বালানির দাম লিটার প্রতি ৮২.১২ টাকা, যা সাধারণ E20 পেট্রোলের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা সস্তা। এটি পরিবেশবান্ধব এবং বিদেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমানোর একটি বড় পদক্ষেপ।
মাইলেজ ও খরচের সমীকরণ ফ্লেক্স ফুয়েল এবং সিএনজি-র মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো জ্বালানির শক্তি। ইথানলের এনার্জি ডেনসিটি বা শক্তি ঘনত্ব সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় কম। তাই সমান দূরত্ব অতিক্রম করতে ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়িকে সাধারণ পেট্রোল বা সিএনজি-র তুলনায় কিছুটা বেশি জ্বালানি খরচ করতে হতে পারে। যদিও ইথানলের দাম কম, তবুও মাইলেজের অংকে সিএনজি এখনো কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে।
কোনটি আপনার জন্য সেরা?
-
সিএনজি: যারা প্রচুর মাইলেজ খুঁজছেন এবং যাদের এলাকায় সিএনজি পাম্পের অভাব নেই, তাদের জন্য সিএনজি সেরা।
-
ফ্লেক্স ফুয়েল: আপনি যদি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সমর্থক হন এবং দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী দামের জ্বালানি ব্যবহার করতে চান, তবে ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়ি ভবিষ্যতে একটি দুর্দান্ত বিকল্প হতে পারে।
মোদ্দা কথা, সিএনজি এখনকার জন্য রানুং কস্টের দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, সরকারের ফ্লেক্স ফুয়েল নীতি ভবিষ্যতে জ্বালানি খরচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।