জজ ও মন্ত্রীদের নিয়ে ‘ভুয়া’ খবর ভাইরাল: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে ভিডিও সরানোর কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের!

বিচারক এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের নিয়ে লন্ডনের একটি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ভুয়া খবর ও ভিডিও নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল দিল্লি হাইকোর্ট। এই বিতর্কিত মিথ্যা প্রচার রোধ করতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবিলম্বে ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট সব কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে, বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে ওই পোস্টগুলোর উৎস বা গ্রাহক সংক্রান্ত তথ্যও তলব করা হয়েছে।

কি এই বিতর্ক? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, লন্ডনে আয়োজিত একটি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে দেশের প্রায় ৭৫ জন বিচারক এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অংশ নিয়েছেন। এই ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছিল, সরকার তাদের আমোদ-প্রমোদের জন্য বিদেশে নিয়ে গেছে। এতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল ও কিরেন রিজিজুর ছবি ব্যবহার করা হয়।

হাইকোর্টে যা বললেন সলিসিটর জেনারেল এই বিষয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে স্পষ্ট জানান, ভাইরাল হওয়া এই তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। তিনি জানান, ভাইরাল ছবিতে প্রদর্শিত ওই ইভেন্টটি আসলে ২০২৫ সালের। প্রধান বিচারপতি লন্ডনে সে সময় ব্রিটিশ প্রধান বিচারপতির সাথে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং কিছু প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। মন্ত্রীরা সে সময় লন্ডনেই ছিলেন না। সলিসিটর জেনারেল জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ বিচারবিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার এক সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্বেগ ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে প্রবীণ আইনজীবী অপূর্ব কুরুপ জানান, বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া সত্ত্বেও ভুয়া খবরটি থামছে না। তিনি অভিযোগ করেন, এটি একদিকে যেমন বিচার বিভাগের অপমান, তেমনই খেলোয়াড়দের এবং খেলার দুনিয়াকেও উপহাসের পাত্র করে তুলছে।

আদালতের কঠোর বার্তা দিল্লি হাইকোর্ট বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে। বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে এই ভুয়া খবর ছড়ানোর পেছনের মূল চক্রীদের খুঁজে বের করতে হবে এবং যথাযথ তদন্ত করতে হবে। আদালত বলেছে, জনমানসে ভুল বার্তা যায় এমন কোনো ভুয়া তথ্য প্রচার বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *