পাকিস্তানের মাটিতে শিখদের নিরাপত্তা কোথায়? গুরুদ্বারের তত্ত্বাবধায়ক বৃদ্ধ দম্পতিকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা!

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ফের শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটল। মারদান জেলার বাবু মহল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক গুরুদ্বারের ভেতরে ৭০ বছর বয়সী শিখ দম্পতি—জগন্নাথ এবং তাঁর স্ত্রী আসমা ভান্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত শের শাহকে গ্রেফতার করেছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মারদান জেলা পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও) মাসুদ আহমেদ বানগাশ এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশের বিশেষ দল, কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি) ঘটনাটির তদন্ত করছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শের শাহর কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। পুলিশ অভিযুক্তের জবানবন্দি ও সংগৃহীত ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে।

এই ঘটনা পাকিস্তানের সংখ্যালঘু শিখদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। জানা গেছে, গুরুদ্বারটি সুরক্ষার জন্য একজন পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হলেও, হামলার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। নিরাপত্তা গাফিলতির চরম নিদর্শন দেখা গেছে গুরুদ্বার চত্বরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর ক্ষেত্রেও। তদন্তকারী দল জানতে পেরেছে যে, ঘটনার সময় ক্যামেরার ডিভিআর (ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার) অচল অবস্থায় ছিল, যা অপরাধীদের চিহ্নিত করার কাজকে প্রাথমিকভাবে জটিল করে তুলেছিল।

এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আকাল তখত। আকাল তখতের জাথেদার জ্ঞানী কুলদীপ সিং গারগাজ অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িতদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, পাকিস্তান ১৯৫০ সালের নেহেরু-লিয়াকত চুক্তির শর্তাবলী পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, যেখানে দুই দেশই নিজেদের ভূখণ্ডে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক সংখ্যালঘুর ওপর হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ইমরান-শাহবাজ সরকারের ভাবমূর্তিকে আবারও সংকটে ফেলল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *