রেলপথের আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ! কাটিহারে নতুন ডাবল লাইনের সুরক্ষা পরিদর্শনে সিআরএস!

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে কাটিহার ডিভিশন। কাটিহার–কুরেথা এবং কাটিহার–সোনাইলি সেকশনে নবনির্মিত ব্রড গেজ ডাবল লাইনের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছেন কলকাতার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত সার্কেলের ‘কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি’ (CRS) সুমিত সিংঘল। ১৭ জুন থেকে শুরু হওয়া এই পরিদর্শন কর্মসূচি আজ, ১৯ জুন শেষ হচ্ছে।

প্রকল্পের গুরুত্ব:
কাটিহার-কুমেদপুর এবং কাটিহার-মুকুরিয়া ডাবল লাইন প্রজেক্টটি সামগ্রিকভাবে ৬৪.১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কাটিহার ডিভিশনের ট্রেন পরিচালন ব্যবস্থার সক্ষমতা ও দক্ষতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলা। এই বিশাল প্রজেক্টের মধ্যে রয়েছে ২টি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ, ২৭টি মেজর ও ২৩টি মাইনর ব্রিজসহ অত্যাধুনিক রেল পরিকাঠামো। প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে মোট ১৬টি রেলওয়ে স্টেশনের মাধ্যমে এই করিডোরটি ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। এর ফলে ট্রেনের যানজট কমবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় সাশ্রয় হবে।

কী কী পরীক্ষা করছেন সিআরএস?
পরিদর্শন কর্মসূচির আওতায় সুমিত সিংঘল নবনির্মিত লাইনগুলোর প্রতিটি খুঁটিনাটি পরীক্ষা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে:

ট্র্যাক জ্যামিতি ও ব্রিজ: লাইনের গঠন ও সুরক্ষা মান যাচাই।

সিগন্যালিং ও টেলিকমিউনিকেশন: ট্রেনের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য এই ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষা।

বৈদ্যুতিক ইনস্টলেশন ও স্টেশন পরিকাঠামো: নতুন তৈরি স্টেশনগুলোর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ফিল্ড ইনস্টলেশন: যাত্রাপথে থাকা প্রতিটি স্থাপনার খুঁটিনাটি পরীক্ষা।

ভবিষ্যৎ প্রভাব:
রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, সিআরএস-এর এই বিধিগত পরিদর্শন (Statutory Inspection) নতুন লাইন উদ্বোধনের চূড়ান্ত ধাপ। এই কাজ সম্পন্ন হওয়ার অর্থ হলো, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে আধুনিকীকরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। নতুন ডাবল লাইন চালু হলে এই অঞ্চলে শুধু ট্রেন চলাচলের সময়সূচীই নিয়মিত হবে না, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগ ব্যবস্থাও অনেক বেশি সুগম হবে।

এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় কাটিহার ডিভিশনের যাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ উৎসাহ দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *