সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনে নিষেধাজ্ঞা! কড়া ব্যবস্থা নিল বিহার সরকার

সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বা কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভ্যাস এবার পুরোপুরি বন্ধ করার পথে বিহার সরকার। স্কুলের পঠনপাঠনের পরিবর্তে শিক্ষকরা যাতে ব্যক্তিগত আয়ের জন্য কোচিং সেন্টারে বেশি ব্যস্ত না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি বিহার সরকারের তরফে এক কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
শিক্ষকদের জন্য নতুন নিয়ম:
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সরকারের নির্দেশে বলা হয়েছে, এখন থেকে সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্কুল সময়ের বাইরে অন্য কোনো কোচিং সেন্টার বা বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াতে পারবেন না। স্কুলে নিজেদের দায়িত্ব সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে এবং পড়ুয়াদের মানোন্নয়নে বিশেষ জোর দিতে হবে। শিক্ষাগত গুণমান নিশ্চিত করাই এই নতুন পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য।
কড়া নজরদারিতে শিক্ষা দফতর:
নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের স্কুলের কাজের প্রতি মনোযোগী হতে হবে এবং দায়িত্বের সময়কালে সকল পড়ুয়ার জন্য সবসময় উপস্থিত থাকতে হবে। জেলা শিক্ষা দফতরকে এই নির্দেশ পালনের বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো শিক্ষক এই নিয়ম লঙ্ঘন করে কোচিং বা প্রাইভেট টিউশন পড়াতে গিয়ে ধরা পড়েন, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা (Disciplinary Action) গ্রহণ করা হবে।
কেন এই পদক্ষেপ?
বিহারে স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে ও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মান বাড়াতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, সরকারি শিক্ষকরা যদি স্কুলের বাইরে পড়ানোয় বেশি সময় ব্যয় করেন, তবে স্কুলের পড়াশোনায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সেই প্রবণতা বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর বিহারের সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার মান ও শিক্ষকদের উপস্থিতির হার কতটা উন্নত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।