রূপোর বালা কেড়ে নিতেই নৃশংস খুন! গৃহবধূকে কুয়োয় ফেলে পা কেটে নেওয়ার জঘন্য ঘটনায় তোলপাড়

রাজস্থানের চাকসুর শিবদাসপুরা থানা এলাকায় এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। সামান্য অলংকারের লোভে ৫৪ বছর বয়সী বীণা দেবী নামে এক গৃহবধূকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। বাল্লুপুরার বাসিন্দা বীণা দেবী বৃহস্পতিবার ওষুধ কেনার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। গভীর রাত পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবার থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে। অবশেষে শুক্রবার সকালে গ্রামের একটি কুয়োর কাছে স্থানীয়রা সন্দেহজনক কিছু দেখে পুলিশকে খবর দেয়।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা কুয়ো থেকে বীণা দেবীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে। দেহটির অবস্থা ছিল অকল্পনীয়—নিহত মহিলার দুটি পা-ই কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মৃতদেহটিকে পাথর দিয়ে বেঁধে কুয়োর গভীরে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় বীণা দেবী এক কেজি ওজনের রুপোর বালা, সোনার দুল, নাকফুল সহ বহু মূল্যবান গয়না পরেছিলেন। উদ্ধারের সময় মহিলার শরীর থেকে সমস্ত গয়না উধাও ছিল। এই থেকেই প্রাথমিক অনুমান, শুধুমাত্র লুটপাটের উদ্দেশ্যেই এই ঠাণ্ডা মাথার খুন করা হয়েছে। অপরাধীরা নিজের পরিচয় গোপন করতে এবং নৃশংসতার চিহ্ন ঢাকতে দেহাংশ আলাদা করে ফেলেছিল বলে মনে করছে পুলিশ।

এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারি, বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত এবং নিহতের পরিবারের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরির দাবিতে গ্রামবাসীরা থানায় বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিসিপি পদমর্যাদার অফিসাররা পুরো বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তদন্তের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের আশ্বাস, খুব দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *