ইরান-আমেরিকা ঐতিহাসিক চুক্তি, হরমুজ প্রণালীতে আগামী ৬০ দিন কোনো মাশুল ছাড়াই চলবে জাহাজ!

ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা, ‘সুপারিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ (SNSC), বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিন এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী যেকোনো জাহাজের কাছ থেকে কোনো প্রকার শুল্ক বা ফি আদায় করা হবে না। ইরান সরকারের এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, এই দুই মাস সময়কালে জাহাজ চলাচলের সমস্ত আনুষঙ্গিক ব্যয়ভার বহন করবে খোদ ইরান সরকার। তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU)-এর ধারাবাহিকতায় এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা মানতে হবে:
১. হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার আগে জাহাজগুলোকে তাদের অনুরোধ বা আবেদন ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (PGSA)-এর কাছে জমা দিতে হবে।
২. নিরাপত্তার খাতিরে জাহাজগুলোকে শুধুমাত্র নির্ধারিত নিরাপদ রুট ব্যবহার করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়সূচী কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
৩. ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে জলপথে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে পরিচালনা করা হবে।
৪. কারিগরি ও বাস্তবায়নের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে শীঘ্রই PGSA বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করবে।

অন্যদিকে, এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, পরবর্তী ৬০ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের জন্য নির্ধারিত এই অর্থনৈতিক সুবিধা কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হবে না, বরং তাদের পদক্ষেপগুলো মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হবে। ভেন্স আরও বলেন, এই অস্থায়ী সমঝোতাটিকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপান্তর করাই আমেরিকার মূল লক্ষ্য। এর আওতায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে। মার্কিন এই নেতার কথায়, “৬০ দিনের এই বিশেষ সময়সীমা আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।” আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও আমেরিকার এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এক নতুন ও স্থিতিশীল অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *