২০০৮-এর সেই কুখ্যাত ‘চড়-কাণ্ড’ কি এবার বক্সিং রিংয়ে? হরভজনকে শ্রীসান্তের সরাসরি চ্যালেঞ্জ!

আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়, ২০০৮ সালের সেই ‘চড়-কাণ্ড’ যেন আজও জীবন্ত। দুই দশক পার হতে চললেও প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার এস শ্রীসান্ত এবং হরভজন সিংয়ের মধ্যকার তিক্ততা যে এখনও অমলিন, তা আবারও প্রমাণিত হলো। সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় টক শো-তে এসে হরভজন সিংকে সরাসরি বক্সিং রিংয়ে লড়াইয়ের আহ্বান জানালেন শ্রীসান্ত, যা মুহূর্তের মধ্যে ক্রিকেট মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালের আইপিএলে। মোহালিতে পাঞ্জাব বনাম রাজস্থান ম্যাচের শেষে হাত মেলানোর সময় হরভজন সিং চড় মেরেছিলেন শ্রীসান্তকে, যা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অন্ধকার মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। দীর্ঘদিন এই ঘটনা নিয়ে জলঘোলা হওয়ার পর শ্রীসান্ত জানিয়েছিলেন যে তিনি হরভজনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি ২০২৬ সালে একটি মার্কেটিং অ্যাপের বিজ্ঞাপনে হরভজনকে ‘চড়-ক্লাস’ নিতে দেখা যায়, যা পরোক্ষভাবে সেই বিতর্ককে উসকে দেয়। এরপরেই শ্রীসান্ত তার ক্ষোভ উগরে দেন।
সম্প্রতি ‘দ্য লল্লনটপ’-এর একটি শো-তে অংশ নিয়ে শ্রীসান্ত হরভজন সিংকে লক্ষ্য করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। শো-র পর্দায় তাদের বক্সিং গিয়ার পরা একটি পুরনো ছবি দেখানো হলে শ্রীসান্তের মেজাজ বিগড়ে যায়। তিনি সরাসরি ক্যামেরা দেখে হরভজনকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, “আপনার কি দম আছে? সাহস থাকলে বক্সিং রিংয়ে আসুন! কন্ট্রাক্ট সই করে মুখোমুখি লড়াইয়ের জন্য তৈরি কি আপনি? এটি কোনো অভিনয় নয়, আমি হাসছি কারণ আমি এখন শান্ত। কিন্তু রিংয়ের ভেতর সত্যিকারের লড়াই হবে। এটা আমার ওপেন চ্যালেঞ্জ।”
শুধু তাই নয়, সেই দিনের ঘটনার নতুন এক ভয়াবহ দিকও উন্মোচন করেছেন শ্রীসান্ত। তিনি জানান, মাঠের ওই চড় মারার ঘটনার পরেই বিতর্ক থামেনি। হরভজন সিং সোজা পাঞ্জাবের ড্রেসিংরুমে ঢুকে পড়েছিলেন তার সাথে পুনরায় বিবাদে জড়াতে। সেখানে পাঞ্জাবের তৎকালীন কোচ টম মুডি এবং অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ব্রেট লি হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। শ্রীসান্ত সাফ জানিয়েছেন, তিনি নিজেও সেই সময় পাল্টা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের এই পুরনো ক্ষত যে বিজ্ঞাপনের হাত ধরে নতুন করে জ্বলে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য। শ্রীসান্তের এই ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’-এর পর হরভজন সিং এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও, ক্রিকেট ভক্তদের মনে প্রশ্ন একটাই—ক্রিকেটের ময়দান ছেড়ে দুই প্রাক্তন সতীর্থ কি সত্যিই বক্সিং রিংয়ে মুখোমুখি হবেন? নাকি পুরোনো সব তিক্ততা ভুলে অদূর ভবিষ্যতে তাদের ফের বন্ধুত্বের নতুন সমীকরণ দেখা যাবে? বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে এই বিতর্ক যে আরও কিছুটা সময় আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে, তা নিশ্চিত।