রাজনীতি থেকে দূরে থেকেও কেন মমতার ‘আশীর্বাদ’ ফেরালেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ? ভাইরাল হলো বিস্ফোরক পোস্ট!

পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন আর গোপন নেই। দলের অন্দরের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের টানাপোড়েন এখন শিরোনামে। এরই মধ্যে এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী রইল মমতা ব্যানার্জীর কালীঘাটের বাসভবন। প্রবীণ তৃণমূল নেত্রী তথা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে, পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া উপহার ফেরত দিতে গিয়ে চরম অবহেলার শিকার হলেন।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। ডঃ বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বাসভবনের সামনে হাজির হন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—মমতা ব্যানার্জীর দেওয়া একটি সোনার হার এবং কিছু উপহার ফিরিয়ে দেওয়া। উল্লেখ্য, এই উপহারগুলো মমতা ব্যানার্জী তাঁকে দুর্গাপূজা ও বিবাহের শুভ মুহূর্তে আশীর্বাদস্বরূপ দিয়েছিলেন। গভীর রাত পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার পরেও, নিরাপত্তা কর্মীরা এবং পুলিশ তাঁকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। এমনকি উপহার ও তাঁর লেখা চিঠিটিও গ্রহণ করতে অস্বীকার করা হয়।
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত নিলেন ডঃ বৈদ্যনাথ? নিজের ‘এক্স’ (টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “শৈশব থেকেই মমতা ব্যানার্জীর প্রতি আমার অপরিসীম শ্রদ্ধা ও স্নেহ ছিল। তাঁর দেওয়া উপহার আমার কাছে অমূল্য আশীর্বাদ ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক দিনে দলের কয়েকজন সাংসদ ও নেতা আমার এবং আমার পরিবার সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। আমি প্রত্যক্ষ রাজনীতির সাথে যুক্ত নই, অথচ আমাদের ব্যক্তিগত বিপর্যয় নিয়ে তৃণমূলের আইটি সেল যেভাবে উপহাস করছে, তাতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। তাই বিবেকের তাগিদে এই উপহারগুলো ফিরিয়ে দেওয়াকেই আমি সঠিক বলে মনে করেছি।”
উপহার ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ডঃ বৈদ্যনাথ জানিয়েছেন, যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর কার্যালয় এগুলো গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে, তাই তিনি এই সোনার হার ও উপহার সামগ্রী কালীঘাট মন্দিরে দেবী কালীর চরণে দান করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলের এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অন্দরে বাড়তে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি হয়েও রাজনীতির শিকার হওয়া এবং মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে এমন নাটকীয় ঘটনা দলের বর্তমান অস্থিরতাকেই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। ডঃ বৈদ্যনাথ বারবার দাবি করেছেন, মমতা ব্যানার্জীর প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত ভক্তি অটুট, কিন্তু দলের একাংশের নোংরা রাজনীতির কারণেই তিনি এই পথে হাঁটতে বাধ্য হলেন। এই ঘটনা তৃণমূলের অন্দরমহলের রাজনৈতিক সম্পর্কের তিক্ততাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।