‘ভিডিওর ব্যক্তি মান নন’, ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই পাঞ্জাব রাজনীতিতে নতুন তোলপাড়!

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কিত ভিডিওকাণ্ডে নতুন মোড়। অকাল তখতের ‘গুরুদ্রোহী’ ও ‘খালসা পন্থ বিরোধী’ ঘোষণার পর পাল্টা পদক্ষেপ নিল আম আদমি পার্টি (আপ)। বৃহস্পতিবার পাঞ্জাব সরকার দুটি স্বাধীন ফরেনসিক রিপোর্ট জনসমক্ষে এনে দাবি করল, বিতর্কিত ওই ভিডিওতে দৃশ্যমান ব্যক্তি আদৌ মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান নন।
চণ্ডীগড়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা এবং আপের মিডিয়া ইন-চার্জ বলতেজ পান্নু এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত সরকার দ্বারা স্বীকৃত পাঞ্জাবের বাইরের দুটি পৃথক ল্যাবরেটরিতে এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়েছে। ৩৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটির ১,১৯১টি ফ্রেম চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি এবং মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের শারীরিক গঠন, উচ্চতা ও অঙ্গভঙ্গির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিডিওর ওই ব্যক্তির উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের প্রকৃত উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। এছাড়া, ব্যক্তির দাঁড়ানোর ভঙ্গি ও মুখের গড়ন মানের সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না।
এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান একে তাঁর বিরুদ্ধে একটি “সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্যই এমন অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি পাঞ্জাবের ডিজিপি-কে নির্দেশ দিয়েছেন, এই ভুয়া ভিডিও তৈরির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার অকাল তখতের জত্থেদার জ্ঞানী কুলদীপ সিং গর্গজ পাঁচ সিং সাহিবানের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। অকাল তখত দাবি করেছিল, তাদের হাতে থাকা ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে ভিডিওটি আসল এবং এতে এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার হয়নি। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই কংগ্রেস, শিরোমণি অকালি দল এবং বিজেপি-সহ রাজ্যের বিরোধী দলগুলো মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে।
আপের পাল্টা দাবি, অকাল তখতের রিপোর্টে ভিডিওটি আসল কি না, তা নিয়ে মন্তব্য থাকলেও ভিডিওতে দৃশ্যমান ব্যক্তি যে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়া হয়নি। এখন এই নতুন ফরেনসিক রিপোর্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা কতটা প্রশমিত করতে পারে, সেটাই বড় প্রশ্ন।