হরমুজ খুলবে কবে? মাইনমুক্ত করতে লাগবে ৩০ দিন, ইরানের প্রস্তাবে নতুন জল্পনা!

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পারস্য উপসাগরের এই প্রবেশদ্বার বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান মাধ্যম। তবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, এই পথ পুরোপুরি সচল করতে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে পানির নিচে পেতে রাখা মাইন।

বিপজ্জনক মাইন ও অপসারণ চ্যালেঞ্জ
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ‘অ্যাক্সিওস’-এর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর তলদেশে ১০০টিরও বেশি মাইন পাতা রয়েছে। এর মধ্যে ‘মাহাম-৩’ নামের একেকটি মাইনে প্রায় ৩৪০ কিলোগ্রাম করে বিস্ফোরক রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, পুরো জলপথ জুড়ে প্রায় ৩৪,০০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক মজুত রয়েছে, যা প্রতি মিটারে এক কিলোগ্রাম বিস্ফোরকের সমান। বিশেষজ্ঞ ও পেন্টাগনের অনুমান, এই বিশাল মাইন অপসারণ করে নিরাপদ যাতায়াতের উপযোগী করতে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তবে আশার কথা, এই প্রক্রিয়া শুরু করতে অন্তত ৩০ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্রান্সের সাহায্য ও ইরানের ভূমিকা
মাইন অপসারণের এই জটিল কাজে ইরান ফ্রান্সের মতো দেশের সহায়তা চাইতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ব্রিটেন ও ফ্রান্স সাইপ্রাসে নিজস্ব জাহাজ মোতায়েন করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁও জানিয়েছেন, হরমুজকে মাইনমুক্ত করতে ফ্রান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।

চুক্তির শর্ত ও বিতর্ক
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি হয়েছে ইরান এবং এই পথ ব্যবহারের জন্য কোনো মাশুল (টোল) আদায় করা হবে না। অন্যদিকে, পরিস্থিতি ভিন্ন। ইরান সরকার তাদের প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে মিলে এই জলপথে ‘পরিবেশ কর’ বা এনভায়রনমেন্টাল ট্যাক্স আদায়ের একটি প্রস্তাব তৈরির কাজ করছে।

এই জলপথটি কৌশলগতভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। মাইন অপসারণের প্রক্রিয়া এবং কর সংক্রান্ত বিতর্ক— দুই মিলেই আগামী দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে থাকবে।