ওয়ার্ড অফিস না কি ফুর্তির আখড়া? তৃণমূল কাউন্সিলরের অফিসে উদ্ধার কন্ডোম, ম্যাসাজ মেশিন!

কলকাতা পুরনিগমের ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক ও উত্তেজনা। সোমবার মুকুন্দপুরে অবস্থিত তাঁর কার্যালয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে উদ্ধার হয় বিভিন্ন বিতর্কিত সামগ্রী, যা ঘিরে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
কী কী মিলেছে ওয়ার্ড অফিসে?
স্থানীয় বিজেপি কর্মী ও অভিযোগকারীদের দাবি, ওয়ার্ড অফিসের ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছিল এক ‘বিলাসবহুল আস্তানা’। অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে:
আপত্তিকর সামগ্রী: কন্ডোম, ম্যাসাজ মেশিন এবং অফিসের ভেতর একটি মেক-আপ রুমের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
ত্রাণ সামগ্রী: প্রচুর পরিমাণে শাড়ি, ধুতি, পাঞ্জাবি ও বিভিন্ন পোশাকের মজুত ভাণ্ডার উদ্ধার হয়েছে। যা সরকারি ত্রাণ হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।
নিয়োগ সংক্রান্ত নথি: বিজেপির অভিযোগ, অফিস থেকে কলকাতা পুরসভায় চাকরির তালিকার নথিপত্র পাওয়া গেছে। একটি হলুদ খাতা উদ্ধার হয়েছে, যেখানে চাকরি দেওয়ার নাম করে কার কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসেব রয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগে চাকরি দেওয়ার নামের তালিকা সেখানে নথিভুক্ত ছিল বলে অভিযোগ।
কাউন্সিলরের সাফাই:
অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ইদ উপলক্ষে জামাকাপড় দান করার জন্য রাখা ছিল, তাই সেগুলো অফিসে থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। পাশাপাশি, ওই অফিসের চাবি তাঁর কাছে থাকে না বলেও তিনি দাবি করেছেন।
আয়-ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন:
অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিজেপি। সন্তোষপুর অ্যাভিনিউতে তাঁর একটি বিলাসবহুল বাড়ির ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যাকে অনেকে ‘রাজপ্রাসাদ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। কাউন্সিলর পদে থেকে তাঁর আয়ের উৎস কী, তা নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন উঠছে।
তদন্তে প্রশাসন:
ওয়ার্ড অফিসে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী এভাবে পড়ে থাকা এবং নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মুকুন্দপুর, বিকাশ গুহ কলোনিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা নিয়ে যে নথি মিলেছে, তা পুরনিগমের নিয়োগ দুর্নীতির নতুন কোনো অধ্যায় কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে।
এদিকে, বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধার হওয়া নথি ও সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।