কৃষক বন্ধু কি বন্ধ হতে চলেছে? পিএম কিষাণ যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা রাজ্যের কৃষিমন্ত্রীর!

রাজ্যের কৃষি খাতে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন নতুন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। বৃহস্পতিবার তিনি ঘোষণা করেছেন যে, এখন থেকে ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে এবং যোগ্য চাষিদের কেন্দ্রীয় সরকারের জনপ্রিয় ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা’ (PM Kisan Yojana)-র আওতায় নিয়ে আসা হবে।
কেন এই বড় সিদ্ধান্ত?
রাজ্যের কৃষি দপ্তরের তথ্য ও সর্বশেষ কৃষি জনগণনার মধ্যে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে নথিভুক্ত উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ১.১৪ কোটি। অথচ সর্বশেষ কৃষি জনগণনা অনুযায়ী, বাংলায় প্রকৃত চাষির সংখ্যা প্রায় ৭২ লক্ষ। এই অসংগতির কারণেই মূলত তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মন্ত্রীর মতে, প্রকল্পের সুযোগ পাওয়ার জন্য তালিকায় বহু ‘অযোগ্য’ ও ‘অস্বচ্ছ’ ব্যক্তির নাম ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেন পিএম কিষাণ যোজনা বেছে নেওয়া হচ্ছে?
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প বজায় রাখতে রাজ্য সরকারকে বছরে ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করতে হয়। যদি রাজ্যের যোগ্য কৃষকদের কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘পিএম কিষাণ’-এর অধীনে স্থানান্তরিত করা হয়, তবে রাজ্যের ওপর আর্থিক বোঝা অনেকটাই কমবে। কারণ, এই প্রকল্পের সমস্ত খরচ কেন্দ্রীয় সরকার বহন করে।
কৃষক বন্ধু ও পিএম কিষাণ: একনজরে পার্থক্য
কৃষক বন্ধু: এই প্রকল্পে এক একর বা তার বেশি জমি থাকলে বছরে ১০ হাজার টাকা এবং এক একরের কম জমি থাকলে ন্যূনতম ৪ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়।
পিএম কিষাণ: এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যা সম্পূর্ণ কেন্দ্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
ইতিমধ্যেই কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের স্বচ্ছতার সাথে উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা সংশোধনের পর যোগ্য চাষিদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়াই এখন রাজ্যের মূল লক্ষ্য। এতে রাজ্যের যেমন আর্থিক সাশ্রয় হবে, তেমনই প্রকৃত কৃষকরা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা পাবেন বলে আশা করছে কৃষি মন্ত্রক।
আপনার এলাকার কৃষি দপ্তরে খোঁজ নিয়ে আপডেট থাকুন, কারণ উপভোক্তা তালিকায় বড় ধরনের রদবদল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।