নিয়োগ দুর্নীতি মামলা! ইডির তলবে সিজিও কমপ্লেক্সে অভিষেক, প্রশ্নের মুখে ‘কালো টাকা’র হদিশ?

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তৎপরতা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর। মামলার তদন্তে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে উঠে আসা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে ইডি। তাঁকে জেরা করার জন্য সিজিও কমপ্লেক্সে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তলবকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে চর্চা।
কেন এই তলব?
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, নিয়োগ দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। বিশেষত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত ‘কালীঘাটের কাকু’ খ্যাত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক নথিপত্র এবং তাঁর ফোন রেকর্ডিংয়ে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে বেশ কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই তথ্যের যোগসূত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বা তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের সঙ্গে থাকতে পারে।
তদন্তকারীদের নজরে যে প্রশ্নগুলো
সিবিআই-এর চার্জশিটে উল্লিখিত বিভিন্ন তথ্য এবং ইডির নিজস্ব তদন্তের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারেন বলে সূত্রের খবর:
আর্থিক লেনদেনের উৎস: সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের সাথে ব্যবসায়িক বা অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক কী ছিল?
সংস্থার সঙ্গে যোগ: নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে অভিষেকের কোনো প্রকার পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল কি?
অডিও ক্লিপিং: সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের বিভিন্ন রেকর্ডিংয়ে যে সমস্ত ব্যক্তির নাম ও কথোপকথন উঠে এসেছে, সে বিষয়ে অভিষেকের প্রতিক্রিয়া কী?
সম্পত্তির উৎস: এই মামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যে সমস্ত আর্থিক লেনদেনের হদিশ মিলেছে, তাতে অভিষেকের ভূমিকা বা জ্ঞান কতটা?
রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে। দলের শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির দাবি, আইনের পথেই তদন্ত চলছে এবং দুর্নীতির শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে এই জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি।
সিজিও কমপ্লেক্সে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরাকে কেন্দ্র করে আজ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা এই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নতুন কোনো মোড় আনতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এখন ওয়াকিবহাল মহল।