‘বিদ্রোহী’ যোগের জের? সভানেত্রীর পদ হারালেন মালা রায়, দায়িত্বে এলেন কে?

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই মহিলা সংগঠনের শীর্ষ পদে বড়সড় পরিবর্তন আনল দল। মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায়কে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ। শুক্রবার দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পাঠানো চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

পদত্যাগের নেপথ্যে রাজনৈতিক জল্পনা: দলের একাংশের দাবি, গত ৮ জুন মালা রায় নিজেই ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের অন্দরে সৃষ্ট ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং এনডিএ-সমর্থক একটি প্রস্তাবপত্রে স্বাক্ষরের অভিযোগই এই রদবদলের মূল কারণ। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে যে গোষ্ঠী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি ‘বিদ্রোহী’ অবস্থান নিয়েছে, সেখানে মালা রায়ের সক্রিয় উপস্থিতি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলেছিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

কেন আলিফা আহমেদ? ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় এবং ২০২৬-এর ভোটে দলের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার পুরস্কার হিসেবেই আলিফা আহমেদকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের সংগঠনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নতুন মুখ হিসেবে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি আলিফাকে সামনে রেখে মহিলা সংগঠনকে শক্তিশালী করতে চাইছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব।

নতুন সভানেত্রীর প্রতিক্রিয়া: নতুন দায়িত্ব পেয়ে আলিফা আহমেদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “কালীগঞ্জের মানুষের আশীর্বাদে আমি এই পর্যায়ে পৌঁছেছি। এখন সারা রাজ্যের মা-বোনদের হয়ে কাজ করার সুযোগ পেলাম।” দলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ সংকটের কথা মাথায় রেখেই তিনি বলেন, “দলের এই কঠিন সময়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”