বাজার থেকে ডিম কেনার আগে সাবধান! পচা ডিম চেনার সহজ কৌশল জানুন এই প্রতিবেদনে

বাজারে ডিম কিনতে গিয়ে অনেকেই বিক্রেতার ওপর ভরসা করে ঠকে যান। ঘরে এনে অমলেট বা ডিম কারি বানাতে গিয়ে যখন পচা ডিমের উৎকট গন্ধ নাকে আসে, তখন আর মেজাজ ঠিক রাখা দায়! তবে আর চিন্তা নেই, দোকানদারের কারসাজি ধরতে এবং পচা ডিমের হাত থেকে বাঁচতে মেনে চলতে পারেন কিছু সহজ ও বিজ্ঞানসম্মত ঘরোয়া টোটকা।

ডিম পরীক্ষা করার সহজ উপায়:

ঝাঁকিয়ে দেখুন: ডিম কেনার সময় কানের কাছে নিয়ে হালকা করে ঝাঁকান। যদি ভেতর থেকে ‘ছলাত ছলাত’ শব্দ শোনা যায়, তবে ধরে নেবেন ডিমটি পচা। টাটকা ডিমের ভেতর কোনো আওয়াজ হয় না।

জলের পরীক্ষা (সবচেয়ে কার্যকর): একটি পাত্রে পরিষ্কার জল নিন এবং তাতে ডিমটি ছেড়ে দিন।

ডুবলে ভালো: ডিম যদি পাত্রের নিচে শুয়ে থাকে, তবে সেটি একদম টাটকা।

দাঁড়িয়ে থাকলে সতর্ক হোন: ডিম যদি তলায় সোজাসুজি দাঁড়িয়ে থাকে, তবে সেটি খুব একটা ভালো নয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, এমন ডিম না খাওয়াই শ্রেয়।

ভাসলে বর্জন করুন: ডিম যদি জলের ওপরে ভেসে ওঠে, তবে সেটি নিশ্চিতভাবেই পচা। পচা ডিমের ভেতরে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস তৈরি হয়, যা সেটিকে হালকা করে ভাসিয়ে দেয়।

সেদ্ধ করার পর কুসুম দেখে নিন: ডিম সেদ্ধ করার পর খোসা ছাড়িয়ে কুসুমের রঙ লক্ষ্য করুন। কুসুম উজ্জ্বল হলুদ রঙের হলে তা খাওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু কুসুমের রঙ যদি সবুজ বা কালচেটে হয়, তবে সেটি পচা হওয়ার ইঙ্গিত, এমন ডিম সাথে সাথে ফেলে দিন।

কেন সতর্ক থাকবেন?
পচা ডিম খাওয়া শরীরের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। পচা ডিম থেকে ‘সালমোনেলা’ (Salmonella) এবং ‘ই কোলাই’ (E. coli)-এর মতো মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা থেকে ফুড পয়জনিংয়ের মতো বড় শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সস্তার চেয়ে স্বাস্থ্যের কথা ভেবে ডিম কেনার আগে একবার পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।

এখন থেকে বাজার করার সময় এই ছোট ছোট টিপসগুলো মাথায় রাখলে আর ঠকবেন না!