পেট্রল-ডিজেলের খরচ কমাতে ভরসা ইথানল! আপনার গাড়ি কি E20 জ্বালানির উপযোগী?

পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে ভারত সরকার ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির (E20) ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। E20 বলতে বোঝায় পেট্রলের সাথে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ৮০ শতাংশ গ্যাসোলিনের মিশ্রণ। এই উদ্যোগের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের প্রথম সারির গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তাদের নতুন মডেলগুলোকে E20-এর উপযোগী করে তুলছে।
কেন E20 জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ?
ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার কেবল গাড়ির জ্বালানি খরচই কমাবে না, বরং পরিবেশ দূষণ কমাতেও সাহায্য করবে। একইসঙ্গে, আখ ও অন্যান্য শস্য থেকে ইথানল উৎপাদন করায় দেশের কৃষকরাও আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন। তাই নতুন গাড়ি কেনার আগে সেই মডেলটি E20 সামঞ্জস্যপূর্ণ (Compatible) কি না, তা যাচাই করে নেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।
গাড়ি সংস্থাগুলোর বর্তমান পদক্ষেপ:
মারুতি সুজুকি: মারুতি তাদের ‘ওয়াগনআর ফ্লেক্স ফুয়েল’ (WagonR Flex Fuel) নিয়ে এসেছে, যা ভারতের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি। এটি E100 এবং E85 জ্বালানিতেও চলতে সক্ষম। তাদের বেশ কয়েকটি নতুন পেট্রল মডেলও এখন E20 উপযোগী।
টয়োটা: এই প্রযুক্তির অগ্রদূত হিসেবে টয়োটা ‘করোলা হাইব্রিড’-এর ইথানল সংস্করণ এবং ইনোভা হাইক্রসের ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রোটোটাইপ নিয়ে এসেছে।
হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া: হুন্ডাই তাদের ক্রেটার একটি ফ্লেক্স-ফুয়েল সংস্করণ এনেছে, যাতে টার্বো পেট্রল ইঞ্জিন রয়েছে। কোম্পানির নতুন পেট্রল গাড়িগুলো ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা মাথায় রেখেই তৈরি করা হচ্ছে।
টাটা মোটরস: টাটার জনপ্রিয় এসইউভি ‘পাঞ্চ’-এর ফ্লেক্স-ফুয়েল সংস্করণ ই৮৫ (E85) পর্যন্ত মিশ্রণে চলতে সক্ষম। তাদের অধিকাংশ পেট্রল গাড়িতে ইতিমধ্যেই E20 সাপোর্ট রয়েছে।
মাহিন্দ্রা ও হোন্ডা: মাহিন্দ্রার বেশ কিছু এসইউভি এবং হোন্ডা কারস ইন্ডিয়ার নতুন পেট্রল মডেলগুলোও এখন ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির জন্য তৈরি হচ্ছে।
গ্রাহকদের জন্য টিপস:
গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ইঞ্জিন, ফুয়েল সিস্টেম এবং ইসিইউ-তে (ECU) প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে গাড়িগুলোকে ফ্লেক্স-ফুয়েল উপযোগী করে তুলছে। ভবিষ্যতে ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির ব্যাপক প্রচলনের কথা মাথায় রেখে, গ্রাহকদের বর্তমানে নতুন গাড়ি কেনার সময় সংস্থাগুলোর এই প্রযুক্তিগত আপগ্রেড সম্পর্কে সচেতন থাকা বাঞ্ছনীয়।