হাতে ‘ইস্তফা’র নথি, মুখে মমতা-বন্দনা! দেবের রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে চরম ধোঁয়াশা

রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে অস্থিরতা চলছে, তা এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনা প্রমাণ করছে যে, শাসকদলের সংগঠন এখন অনেকটাই টালমাটাল। এর মধ্যে ঘাটালের সাংসদ দেবের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় ধোঁয়াশা।
ঘটনাপ্রবাহের ক্রমবিকাশ:
৮ জুন: দিল্লির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে তৃণমূল সাংসদদের একটি বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেবও।
৯ জুন: কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে দেখা যায় দেব এবং জুন মালিয়াকে।
সাংসদের বক্তব্য: প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে দেব সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত এবং তিনি কোনো ‘নতুন তৃণমূলে’ যোগ দিচ্ছেন না। তাঁর লক্ষ্য কেবল ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণ করা। তিনি নিজেকে ‘সৌজন্যের রাজনীতির’ প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করেন।
কেন উঠছে ‘দ্বিমুখী’ রাজনীতির অভিযোগ?
দেব যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্যের কথা প্রকাশ্যে বলছেন, ঠিক তার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই একটি নথি প্রকাশ্যে এসেছে যা পুরো পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। জানা গেছে, লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য তৈরি একটি চিঠিতে মোট ১৯ জন তৃণমূল সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। ওই তালিকায় ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)-এর নামও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
দীর্ঘদিন ধরে চলা টালমাটাল পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সংসদীয় দল এবং সংগঠনের অন্দরে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। সূত্রের দাবি, এই বিদ্রোহী শিবিরে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিকের মতো একাধিক হাই-প্রোফাইল সাংসদ।
পেশাদার বিশ্লেষণ:
রাজনীতির অন্দরে প্রশ্ন উঠছে—দেব কি সত্যিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আস্থাশীল, নাকি ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’-এর স্বার্থে তিনি রাজনীতির এক জটিল কৌশলে পা দিয়েছেন? একদিকে জনসমক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করা, আর অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় নিজের নাম থাকা—এই দুই বিপরীতমুখী ভূমিকা দেবের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই অভ্যন্তরীণ ভাঙন আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ ও জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।