আলিপুরে জেলা পরিষদ ভবনে বিধ্বংসী আগুন! প্রমাণ লোপাটের ষড়যন্ত্র? তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার আলিপুরে জেলা পরিষদের নব প্রশাসনিক ভবনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য। বুধবারের সেই ভয়াবহ আগুনের রেশ বৃহস্পতিবার সকালেও কাটেনি। ভবনটি এখন কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে, চলছে কুলিং প্রসেস। এই ঘটনার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী দল বিজেপি।
বর্তমান পরিস্থিতি:
দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। বৃহস্পতিবার সকালে ৬, ৭ এবং ৮ তলায় কুলিং প্রসেস সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষিত রাখতে আপাতত ভবনটিতে পুলিশ পিকেটিং বসানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিনের জন্য পুরো প্রশাসনিক ভবনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ভবনের চার তলায় যেখানে আগুন লেগেছিল, সেখানে আটকে থাকা আলমারিগুলো কাটতে কাজে নেমেছে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম। বন দপ্তরের ডিস্ট্রিক্ট ফরেস্ট অফিসার নিশা গোস্বামী জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:
এই ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ বিজেপি। বিরোধীদের অভিযোগ, ফলতার তৃণমূল নেতা তথা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে থাকা জাহাঙ্গির খানের অফিস ছিল এই ভবনের চার তলায়। বিজেপির দাবি, জাহাঙ্গিরের দুর্নীতির যাবতীয় প্রমাণ লোপাট করতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান:
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের জেরে অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং ‘এনআইসি’র দফতর ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি বহু জরুরি নথিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ভস্মীভূত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ও বিস্ফোরক ব্যবহারের ধারায় (PDPP Act সহ ৩২৬জি) মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
ঘটনার নেপথ্যে কি সত্যিই কোনো অন্তর্ঘাত রয়েছে, নাকি এটি কেবল বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের ফল—সেটাই এখন খতিয়ে দেখছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং নথি উদ্ধারের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তদন্তের ধারা অব্যাহত থাকবে।