কোথায় সায়নী? মমতার দেওয়া নতুন দায়িত্বের পর থেকেই ‘বেপাত্তা’ যুবনেত্রী!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন বিদ্রোহের সুর চড়া। বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের নেতা-নেত্রীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি এবং দলত্যাগের হিড়িক পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সবথেকে বড় রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছেন যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। তাঁকে নিয়ে এখন দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা—কোথায় সায়নী ঘোষ?
দায়িত্ব পাওয়ার পরেই উধাও সায়নী!
সম্প্রতি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা দলীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সায়নী। সেখানে তাঁকে দলের মহিলা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন নেত্রী। কিন্তু সেই দায়িত্ব পাওয়ার পরই সায়নীকে আর প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তৃণমূলের যুব সংগঠনের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও নেতারা তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিদ্রোহী শিবিরে সায়নী?
রাজনৈতিক মহলে কানাঘুঁষো শোনা যাচ্ছে, মমতা ও অভিষেকের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে সায়নী এখন ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, “ওখানে আর ভবিষ্যৎ নেই।” শোনা যাচ্ছে, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে লেখা বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের চিঠিতে সায়নী ঘোষও সই করেছেন। এনডিএ-র শরিক হওয়ার লক্ষ্যে যে পৃথক ব্লক তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার অন্যতম শরিক হিসেবে সায়নীর নাম উঠে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি:
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে টলিউড থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া সায়নী ঘোষকে দল উল্কাগতিতে যুবনেত্রীর পদে বসিয়েছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সায়নীর এই অবস্থান বদল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় ধাক্কা। লোকসভায় পৃথক ব্লক তৈরির প্রক্রিয়া এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় ১৬ জন সাংসদের নাম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দলের অন্দরে উদ্বেগ বাড়ছে।
অনেকেই মনে করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সরাসরি অনাস্থা জানিয়ে সায়নী হয়তো দলের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে সায়নী ঘোষের তরফ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তৃণমূলের অন্দরে এখন একটাই প্রশ্ন—সায়নী কি তবে দলের ‘নিরাপদ’ আশ্রয় ছেড়ে বিদ্রোহের পথে?