মোদী সরকারকে কোণঠাসা করতে বড় পরিকল্পনা! বৃহস্পতিবার দিল্লিতে হাইভোল্টেজ বৈঠকে কংগ্রেস

নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়াতে চলেছে কংগ্রেস। সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং আসন্ন নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলোতে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে হাত শিবির। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাপতিত্বে এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

বৈঠকে আলোচ্য বিষয়সমূহ

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় দলের সদর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের সাধারণ সম্পাদক, ইন-চার্জ এবং বিভিন্ন রাজ্যের সভাপতিরা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে মূলত যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হবে:

  • সাংগঠনিক মূল্যায়ন: সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্য সভাপতিদের গত কাজের খতিয়ান নেওয়া হবে। সাংগঠনিক রদবদলের সম্ভাবনাও রয়েছে।

  • সরকার বিরোধী আন্দোলন: প্রশ্নপত্র ফাঁস, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, বিদেশ নীতি এবং কৃষকদের সমস্যার মতো জ্বলন্ত ইস্যুতে দেশব্যাপী আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হবে।

  • নির্বাচনী কৌশল: আসন্ন নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলোর জন্য বিশেষ রণকৌশল নির্ধারণ করা হবে।

  • প্রতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহার: বিরোধীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে কাজে লাগানোর অভিযোগ নিয়ে সরকারবিরোধী প্রচারের নীল নকশা তৈরি হবে।

যুব সমাজ ও নারী ইস্যুতে মোদী সরকারকে নিশানা

বৈঠকের প্রাক্কালে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানানো হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, বিগত ১২ বছরে নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নপত্র ফাঁস ও টেন্ডার কারচুপির মাধ্যমে যুব সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন। দলটির অভিযোগ, “ভারতের যুবসমাজ এবং ‘জেন জি’ (Gen Z) এখন ক্ষুব্ধ, তারা এই অবিচার আর সহ্য করবে না।”

পাশাপাশি, উজ্জ্বলা প্রকল্প নিয়েও কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে কংগ্রেস। ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে কংগ্রেসের দাবি, “দেশের মা ও বোনদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন মোদী।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদী সরকার যখন তাদের ১২তম বর্ষপূর্তি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ঠিক তার আগেই কংগ্রেসের এই বৈঠকটি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন দেখার বিষয়, রাজপথ থেকে সংসদ পর্যন্ত মোদী সরকারকে চাপে ফেলতে কংগ্রেস চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।