বিশ্বের বৃহত্তম আইপিও! স্পেসএক্স-এর ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে কি বড় ধোঁকা?

ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘স্পেসএক্স’ ইতিহাসের বৃহত্তম আইপিও (IPO) আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের আকাশচুম্বী মূল্যায়ন নিয়ে ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এই সংস্থা। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও, এই মহাজাগতিক বাজি ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
২০২৫ সালে ১৮.৬৭ বিলিয়ন ডলার আয়ের বিপরীতে ৪.৯৪ বিলিয়ন ডলার নিট লোকসান সত্ত্বেও, বিনিয়োগকারীরা এই শেয়ারের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইপিও-তে রয়েছে পাঁচটি বড় ঝুঁকি: প্রথমত, বাজার বিশ্লেষকদের মতে এই মূল্যায়ন অস্বাভাবিক রকমের ‘অতিমূল্যায়িত’। দ্বিতীয়ত, কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেও ভোটাধিকারের ৮২ শতাংশ থাকবে সরাসরি মাস্কের হাতে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে সীমিত করবে। তৃতীয়ত, আইপিও-র আগে নেওয়া ২০ বিলিয়ন ডলারের ব্রিজ লোন সংস্থার ব্যালেন্স শিটের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। চতুর্থত, ব্লু অরিজিনের মতো প্রতিযোগীদের ভিড়ে বাজার আধিপত্য ধরে রাখতে স্পেসএক্স-কে নিরন্তর বিপুল বিনিয়োগ করতে হবে। পঞ্চমত, কোম্পানির আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (xAI) ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
নাসডাক-এ আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় থাকা এই সংস্থাটি বর্তমানে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে ভবিষ্যতের অসীম সম্ভাবনা, অন্যদিকে ঋণের বোঝা ও অতিমূল্যায়নের ভয়—সব মিলিয়ে স্পেসএক্স-এর এই আইপিও কি নতুন দিগন্ত খুলবে, নাকি বিনিয়োগকারীদের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা? উত্তর মিলবে লেনদেন শুরু হওয়ার পরেই।