ঘর বাঁচাতে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ মমতার! ২৮ বছর পর কি কংগ্রেসে ফিরছেন দিদি?

তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর—সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতি এখন উত্তাল। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আলগা হতে শুরু করতেই কি পুরনো দল কংগ্রেসে ফেরার কথা ভাবছেন মমতা? কেন এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন? রাজনীতির জটিল অঙ্ক বলছে, এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী কৌশল।

কেন এই জল্পনা? ২৮ বছর আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল গড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা। সূত্রের খবর, তাঁকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সনিয়া গান্ধী। কিন্তু এই পরিবর্তনের আসল কারণ কি কেবল পদ? না, এর নেপথ্যে রয়েছে দল বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা।

মূল সমস্যা কোথায়? ১. বিধানসভায় ভাঙন: বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৪ জন বিধায়ক বিদ্রোহী হয়েছেন। তাঁরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে দলের দখল নিতে চাইছেন। মহারাষ্ট্রের ধাঁচে দল ভাঙার আশঙ্কা প্রবল। ২. সাংসদদের বিদ্রোহ: লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন ২০ জন সাংসদ আলাদা ব্লক তৈরি করে এনডিএ-কে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজ্যসভাতেও পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে।

আইনি সুরক্ষাকবচ কি কংগ্রেস? দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য দল ছাড়লে পদ খারিজ হয় না। তৃণমূলের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী সেই সুবিধাই কাজে লাগাতে চাইছে। এমতাবস্থায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁর অবশিষ্ট অনুগতদের নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত (Merger) হয়ে যান, তবে সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যাবে।

মমতার ‘মাস্টারস্ট্রোক’:

  • সাংসদদের ওপর নিয়ন্ত্রণ: তৃণমূল কংগ্রেস যদি কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যায়, তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বিদ্রোহী ব্লকটির আর আলাদা অস্তিত্ব থাকবে না। ফলে, তাদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে এবং তাদের সাংসদ পদও খারিজ হয়ে যেতে পারে।

  • ঘর বাঁচানো: দলের প্রতীক ও সম্পদ রক্ষা করতে এবং এনডিএ-র হাত শক্তিশালী হওয়া রুখতে কংগ্রেসে একীভূত হওয়াটাই বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতার কাছে ‘সেফ এক্সিট’ বা সুরক্ষাকবচ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

যদিও বিধানসভায় বিধায়কদের সংখ্যায় বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ বেশি, কিন্তু লোকসভা ও রাজ্যসভায় ঘর বাঁচাতে কংগ্রেসের হাত ধরাটাই এখন মমতার একমাত্র তুরুপের তাস।

এখন দেখার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি সত্যিই সেই পুরনো ঘরে ফিরবেন, নাকি তাঁর এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ তৃণমূলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সফল হবে।